যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্র পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। আফ্রিকা মহাদেশের আকার মারকেটর ম্যাপে গ্রিনল্যান্ডের সমান দেখানো হলেও বাস্তবে এটি গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। এই বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘ ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন বা মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
মারকেটর ম্যাপের সীমাবদ্ধতা
১৬ শতকে ফ্লেমিশ মানচিত্রকর জেরার্ডাস মারকেটর এই মানচিত্রটি তৈরি করেছিলেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্টোগ্রাফি বিষয়ের অধ্যাপক জেমস চেশায়ার জানান, তৎকালীন সময়ে নাবিকদের সমুদ্রপথে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। দিগন্তরেখা সোজা রাখার জন্য মানচিত্রের মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রকৃত আয়তনের চেয়ে বড় করে দেখানো হয়েছে। ফলে বিষুবরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোকে ছোট দেখায়। সাড়ে চারশো বছর পেরিয়ে গেলেও গুগল ম্যাপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজও এই মানচিত্রই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই মানচিত্র বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করে এবং আফ্রিকার মতো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে ছোট করে উপস্থাপন করে।
ইকুয়াল আর্থ ও অন্যান্য মানচিত্র
২০১৮ সালে মানচিত্রকরদের একটি দল ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রটি তৈরি করে, যা মহাদেশগুলোর আয়তন ও আকৃতি আরও নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করে। ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোলাকার পৃথিবীর সবকিছু দ্বিমাত্রিক সমতলে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব। কোনো মানচিত্র আয়তন ঠিক রাখলে আকৃতি বা দূরত্বের ক্ষেত্রে ত্রুটি থেকে যায়।
৭০-এর দশকে আরনো পিটার্স ‘পিটার্স ম্যাপ’ প্রবর্তন করেন, যা মহাদেশের আয়তন ঠিক রাখলেও আকার বিকৃত করে। এছাড়া জাতিসংঘের পতাকায় ব্যবহৃত ‘অ্যাজিমুথাল ইক্যুইডিস্ট্যান্ট প্রজেকশন’ বা দক্ষিণ মেরুকে ওপরে রেখে মানচিত্র তৈরির মতো আরও বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। প্রতিটি মানচিত্রই তার ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সামনে আসে।