স্মার্টফোনের ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখা কতটা নিরাপদ?

September 6, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট তাদের প্রতিবেদনে স্মার্টফোনের ব্লুটুথ সুবিধা সবসময় চালু রাখার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক জ্যাক পিচি জানান, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সবসময় ব্লুটুথ চালু রাখা সমীচীন নয়, কারণ এটি হ্যাকারদের সাইবার আক্রমণের সুযোগ করে দিতে পারে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি

যদিও ব্লুটুথ সংযুক্ত করার জন্য ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়, তবে বিভিন্ন ডিভাইসের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্যে আড়ি পাততে পারে। ইনসিনুয়েটর নামক একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এয়ারোহা-ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন দুর্বলতা পাওয়া গেছে যা দিয়ে হ্যাকাররা ব্লুটুথ সীমার মধ্যে থেকে ব্যবহারকারীর কল হিস্ট্রি, কন্টাক্ট লিস্ট এবং ব্যক্তিগত কথোপকথন চুরি করতে পারে। এছাড়া ফিটবিটসহ বিভিন্ন ডিভাইসে ব্লুটুথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে।

প্রতিরক্ষামূলক সতর্কতা

ব্লুটুথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহারকারীদের বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, ব্লুটুথ প্রয়োজন ছাড়া বন্ধ রাখা সবচেয়ে কার্যকর। এছাড়া ব্লুটুথ সেটিংসে ডিভাইসের মোড ‘ডিসকভারি’ বা দৃশ্যমান না রেখে ‘হিডেন’ বা গোপন মোডে রাখা উচিত। কোনো গাড়ি ভাড়া নিলে বা বিক্রির সময় অবশ্যই ব্লুটুথ পেয়ারিং থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড অটোর ক্ষেত্রে ওয়্যারলেস সংযোগ এড়িয়ে চলা এবং আইফোন ব্যবহারকারীদের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারটি সচল কি না তা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণার তথ্য

বেলজিয়ামের কেইউ লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গুগলের ১৭টি ফাস্ট পেয়ার অডিও ডিভাইসে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করতে এবং আড়ি পাততে ব্যবহৃত হতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার ঝুঁকি এড়াতে এফসিসি-এর নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

Leave a Comment