যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যানাসনিক, গেট্যাক ও ডেলের মতো কোম্পানিগুলো বিশেষভাবে তৈরি রাগেড ল্যাপটপ বাজারে আনলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা এগুলো ব্যবহারে তেমন আগ্রহী নন। সংবাদমাধ্যম এনগেজেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ল্যাপটপগুলো এমন সব প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে, যা একজন সাধারণ ক্রেতার দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এই ডিভাইসগুলোর আকাশচুম্বী দাম এবং অতিরিক্ত ওজন সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে।
কেন এই ল্যাপটপগুলো আলাদা
প্যানাসনিকের টাফবুক ৪০-এর মতো রাগেড ল্যাপটপগুলো ৬ ফুট উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও টিকে থাকতে সক্ষম। এছাড়া এগুলো ধুলো ও পানি নিরোধক। মাঠপর্যায়ের কর্মী, সামরিক সদস্য ও জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কথা ভেবেই এগুলো তৈরি করা হয়। এসব ল্যাপটপে গ্লাভস পরা অবস্থায় টাচস্ক্রিন ব্যবহার, ব্যাটারি পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পোর্ট পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
বাড়তি সতর্কতা ও খরচ
রাগেড ল্যাপটপের কাঠামো অত্যন্ত মজবুত ও ভারী হয়। গেট্যাক বা ডেলের রাগেড মডেলগুলোর ওজন ৫ থেকে ৮ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। এই ল্যাপটপে ব্যবহৃত ডিসপ্লেগুলো সরাসরি সূর্যের আলোতেও স্পষ্ট দেখা যায়, যা আউটডোর কাজের জন্য সহায়ক। তবে আধুনিক প্রসেসর ব্যবহার করলেও সাধারণ ল্যাপটপের তুলনায় এগুলোর পর্দার গুণমান বা পোর্টেবিলিটির চেয়ে পরিবেশগত সুরক্ষার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে।
প্রয়োজন বনাম বিলাসিতা
একজন প্রযুক্তিবিদের জন্য সুরক্ষিত পোর্ট বা হাতমোজা পরে কাজ করার সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন সাধারণ অফিসের কর্মীর জন্য তা প্রয়োজন নেই। এছাড়া সেমি-রাগেড ল্যাপটপের দামও অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা তাদের বাজেটের টাকা প্রসেসরের গতি বা ডিসপ্লের গুণমানে ব্যয় করতেই বেশি পছন্দ করেন। মূলত পেশাদার কাজের চাহিদা আর সাধারণ মানুষের ব্যবহারের পার্থক্যের কারণেই রাগেড ল্যাপটপের বাজার সীমিত গণ্ডিতে আটকে আছে।