যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফ্ল্যাশিং মিডোসে চলমান ইউএস ওপেনে শীর্ষ বাছাই অনেক পুরুষ খেলোয়াড় চতুর্থ রাউন্ডের আগেই বিদায় নিয়েছেন। খেলোয়াড়দের দাবি, তারা কোনো যন্ত্র নন, বরং দীর্ঘ মৌসুমের ক্লান্তি এবং তীব্র মানসিক চাপের কারণেই এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মতো বড় মঞ্চে বর্তমান টেনিস তারকাদের শারীরিক ও মানসিক সহনশীলতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ফ্ল্যাশিং মিডোসে এবারের আসরে শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই চতুর্থ রাউন্ডের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছেন। এর মধ্যে টেইলর ফ্রিৎজ দুই সেট এগিয়ে থেকেও ফ্রান্সিসকো সেরুন্দোলোর কাছে পরাজিত হয়েছেন। বর্তমান সময়ের টেনিসে ইয়ানিক সিনার এবং কার্লোস আলকারাজের আধিপত্যের কারণে অন্য খেলোয়াড়দের ওপর জেতার বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সেরুন্দোলো বলেন, সার্কিট এখন কতটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতা যে কতটা কঠিন, তা এই ফলাফলগুলো থেকেই বোঝা যায়। এখন যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।
শারীরিক ও মানসিক চাপের প্রভাব
খেলোয়াড়দের বিদায়ের পেছনে শুধু মানসিক চাপ নয়, বরং দীর্ঘ মৌসুমের শারীরিক ক্লান্তি, ইনজুরি এবং অসুস্থতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। ফেবারিট নোভাক জোকোভিচ প্রথম রাউন্ডেই হেরেছেন, যার পেছনে তার বয়সের ভার ও শারীরিক অসামর্থ্যকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া ফ্ল্যাশিং মিডোর ভ্যাপসা গরমে অনেক খেলোয়াড়ই শক্তির অভাব অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
বেলজিয়ামের খেলোয়াড় আলেকজান্ডার ব্লকক্স বলেন, মৌসুম অনেক দীর্ঘ। যারা প্রস্তুতির টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো করেছে, তাদের জন্য এখানে লড়াই করা আরও কঠিন। আমরা সবাই মানুষ, রোবট নই। প্রতি সপ্তাহে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন, বিশেষ করে গ্র্যান্ড স্ল্যামে যেখানে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হয়।
নারী বিভাগের ভিন্ন চিত্র
পুরুষদের ড্রতে চরম অনিশ্চয়তা থাকলেও নারী বিভাগে চিত্রটি ভিন্ন। শীর্ষ ১৬ বাছাইয়ের ১১ জনই চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন। আরিনা সাবালেঙ্কা এবং এলেনা রিবাকিনার মতো খেলোয়াড়রা কোনো সেট না খুইয়েই এগিয়ে গেছেন। নারী টেনিসে শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে সক্ষমতার সমতা থাকায় যে কেউ ট্রফি জিততে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা পুরুষ বিভাগের তুলনায় ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে।