কেনিয়ার নাইরোবিতে লাইসেন্সবিহীন ছোট ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরকারি অভিযানের ঘোষণার পর শত শত বুরুন্ডির নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সোমবারের মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের সব ধরণের ছোট ব্যবসা বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী বা পর্যটক হিসেবে ভিসা নিয়ে এসে নিয়ম ভেঙে ছোটখাটো ব্যবসা করছেন, যা আইনত দণ্ডনীয়।
নাইরোবিতে বুরুন্ডির দূতাবাসের বাইরে শত শত মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে। যারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ নথিপত্র বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। এর পাশাপাশি অনেকে বাসের টিকিট সংগ্রহ করছেন। গৃহস্থালি সামগ্রী থেকে শুরু করে তোশক পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে অনেকে দ্রুত কেনিয়া ত্যাগ করছেন।
প্রেসিডেন্ট রুটো জানিয়েছেন, কেনিয়া বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, কিন্তু বিদেশিরা এসে রাস্তার হকার বা ছোট দোকানের ব্যবসা চালাবেন, তা মেনে নেওয়া হবে না। তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়ানো। এই মন্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা একে অভিবাসীবিদ্বেষী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও সরকারি কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন।
বুরুন্ডির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডুয়ার্ড বিজামানা এই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, কেনিয়ায় অবস্থানরত বুরুন্ডির নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেনিয়া সরকারের। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি বুরুন্ডির নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ না হয়, তবে এর প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় প্রায় ১৬ হাজার বুরুন্ডির শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন অবৈধভাবে ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা করির সিংওই জানিয়েছেন, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও লাইসেন্স থাকা সাপেক্ষে বিদেশিরা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে এই আশ্বাসেও অনেক অভিবাসী ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে দেশ ছাড়ছেন।
কেনিয়ায় বসবাসরত বুরুন্ডির নাগরিকদের সংগঠনের প্রধান অ্যালেক্সিস নতিনানিরওয়া বলেন, প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত পুরো পূর্ব আফ্রিকান অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ কেনিয়ার অনেক নাগরিকও বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও উগান্ডাতে ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি অভিবাসীদের আইন অমান্য না করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।