যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ডেটিং অ্যাপ গ্রাইন্ডারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যবহারকারীদের এইচআইভি স্ট্যাটাস তৃতীয় পক্ষের কাছে শেয়ার করার অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই এলজিবিটিকিউ+ ডেটিং অ্যাপের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি ক্লাস অ্যাকশন বা সম্মিলিত মামলায় রূপ নেয়। এই মামলায় ১১ হাজারেরও বেশি ভুক্তভোগী যুক্ত ছিলেন।
আমেরিকার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রাইন্ডার দুই কিস্তিতে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড করে মোট ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করবে। কোম্পানিটি জোর দিয়ে বলেছে, এই অর্থ প্রদানের মানে এই নয় যে তারা অভিযোগের দায় স্বীকার করছে। তবে এটি ২০২০ সালের আগের সময়ের ‘ঐতিহাসিক ডেটা অনুশীলনের’ বিষয়, যখন কোম্পানিটির মালিকানায় ছিল চীনা প্রতিষ্ঠান কুনলুন।
কেন এই মামলা
অস্টেন হেইস নামের একটি ল ফার্ম দুই বছর আগে অভিযোগ তুলেছিল যে, গ্রাইন্ডার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে শেয়ার করেছে, যা যুক্তরাজ্যের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীদের জাতিগত পরিচয় এবং যৌন অভিরুচির তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রাইন্ডারে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের এইচআইভি স্ট্যাটাস এবং সর্বশেষ পরীক্ষার তারিখ শেয়ার করতে পারেন, যা মূলত সচেতনতা বাড়ানোর জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, এই সংবেদনশীল তথ্য অনুমতি ছাড়াই অ্যাপটিমাইজ ও লোকালিটিক্স নামক দুটি ডেটা অ্যানালিটিক্স সার্ভিসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
গ্রাইন্ডারের ভাষ্য
আইনি নথিতে গ্রাইন্ডার জানিয়েছে, তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও ২০২০ সালের আগের সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ ও আস্থাহীনতাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, ২০২০ সালের পর থেকে তারা তাদের গোপনীয়তা চর্চায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে তারা জরিমানার পুরো অর্থ পরিশোধ করবে।