বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনধারী প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অংয়ের বেতন বাড়ছে ১.১ মিলিয়ন ডলার

September 8, 2026

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অংয়ের বার্ষিক বেতন ১.১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার পাউন্ড) বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনভোগী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পরিচিত লরেন্স অং জানিয়েছেন, তিনি পরবর্তী পাঁচ বছর এই বর্ধিত বেতন দাতব্য সংস্থায় দান করবেন। যোগ্য মেধাবীদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতেই মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বর্তমানে লরেন্স অংয়ের বার্ষিক বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার। বেতন বৃদ্ধির পর তা ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়াবে। সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন প্রদান করলে প্রশাসনিক দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়। তবে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন সাধারণ মানুষ।

জনসমক্ষে লরেন্স অং স্বীকার করেছেন যে, সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি। তবে তিনি দাবি করেন, শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতা বা সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে আসার জন্য রাজি করানো কঠিন। তাদের ক্যারিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি কমাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীরাও যোগ্য ব্যক্তিদের একটি শক্তিশালী টিম গঠন করতে পারবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

মন্ত্রীদের বেতন কাঠামোতে কর্মদক্ষতার বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। বেকারত্বের হার, আয়ের প্রবৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর ভিত্তি করে তাদের মোট বেতনের একটি অংশ নির্ধারিত হয়। বর্তমান মেয়াদের শেষ নাগাদ অধিকাংশ মন্ত্রীর বেতন ১৩ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) জন্য মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে সরকার মন্ত্রীদের বেতন কমিয়েছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে সিঙ্গাপুর শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও, সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে মন্ত্রীদের বেতনের বিশাল পার্থক্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থেকেই যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও ছাঁটাইয়ের মুখে থাকা সিঙ্গাপুরের সাধারণ নাগরিকদের অনেকের কাছেই এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি অসংবেদনশীল বলে মনে হচ্ছে।

Leave a Comment