আইফোন ডুয়ো বনাম স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮: কার পাল্লা ভারী?

September 10, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ উন্মোচন করেছে। অ্যাপল জানিয়েছে, এটি তাদের স্মার্টফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এর আগে স্যামসাং তাদের অষ্টম প্রজন্মের ফোল্ডেবল ফোন ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮’ বাজারে আনে। এই দুই ডিভাইসের আকার ও গঠন অনেকটা একই রকম হওয়ায় স্মার্টফোন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রদর্শন এবং ডিজাইন
উভয় ফোনেই ৭.৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে এবং ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। আইফোন ডুয়োর ডিসপ্লে রেজোলিউশন স্যামসাংয়ের তুলনায় সামান্য বেশি। স্যামসাংয়ের তৈরি ওএলইডি স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে আইফোন ডুয়োতে। উভয় ফোনেই অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং এবং টাইটানিয়াম প্লেট ব্যবহার করা হয়েছে স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য।

পারফরম্যান্স ও ক্যামেরা
আইফোন ডুয়োতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ, যা ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। এটি স্যামসাংয়ের স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসরের তুলনায় পারফরম্যান্স ও গেমিংয়ে এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যামেরার ক্ষেত্রে উভয় ফোনে টেলিফটো লেন্সের অভাব রয়েছে। স্যামসাং দুটি ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সর ব্যবহার করলেও অ্যাপল ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ও আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা যুক্ত করেছে।

ব্যাটারি ও মাল্টিটাস্কিং
স্যামসাং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তাদের মাল্টিটাস্কিং ফিচারগুলোকে আইওএসের তুলনায় আরও উন্নত রেখেছে। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ একসাথে পাঁচটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও আইফোন ডুয়োতে মাল্টিটাস্কিং সীমাবদ্ধ। ব্যাটারি সক্ষমতা ও চার্জিংয়েও স্যামসাং কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। আইফোন ডুয়োতে ফেসআইডির পরিবর্তে পাওয়ার বাটনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে।

স্থায়িত্ব ও মূল্য
আইফোন ডুয়ো আইপি৬৮ রেটিংয়ের কারণে স্যামসাংয়ের আইপি৪৮ রেটিংয়ের চেয়ে স্থায়িত্বের দিক থেকে এগিয়ে। তবে দামের ক্ষেত্রে আইফোন ডুয়োর প্রারম্ভিক মূল্য ১,৯৯৯ ডলার, যেখানে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ শুরু হচ্ছে ১,৯০০ ডলার থেকে। সব মিলিয়ে, আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল একটি শক্তিশালী ফোল্ডেবল বিকল্প নিয়ে এসেছে, তবে পেশাদার মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য গ্যালাক্সি সিরিজ এখনো এগিয়ে রয়েছে।

Leave a Comment