যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের গবেষকরা মহাবিশ্বের প্রসারণ নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাদের দাবি, মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরান্বিত হওয়ার পেছনে ‘ডার্ক এনার্জি’র যে ভূমিকা থাকার কথা বলা হয়, তা সম্ভবত সঠিক নয়। এই গবেষণাটি নতুন করে বিশ্বজুড়ে মহাজাগতিক প্রসারণ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুবীর সরকার এবং টাটা ইনস্টিটিউটের অনমেষ সাহ ও মোহাম্মদ রমিজ। তারা প্যান্থিওন প্লাস নামক একটি ডেটাসেট বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে ১,৭০০টিরও বেশি টাইপ ১এ সুপারনোভার তথ্য রয়েছে। গত ২৫ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এই সুপারনোভাগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রসারণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।
প্রধান পর্যবেক্ষণ
অধ্যাপক সুবীর সরকার জানান, সুপারনোভাগুলো যে নক্ষত্র থেকে তৈরি হয়, তার বয়সের ওপর সেগুলোর উজ্জ্বলতা নির্ভর করে। আগে এই বিষয়টি হিসেবে আনা হতো না বলে মহাবিশ্বের প্রসারণ দ্রুত হচ্ছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। গবেষকদের নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নক্ষত্রের বয়সের বিষয়টি মাথায় রাখলে মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরান্বিত হওয়ার বদলে ধীরগতিতে হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এছাড়া মহাবিশ্বের প্রসারণ সব দিকে সমান নয় বলেও তারা দাবি করেছেন, যা ডার্ক এনার্জির প্রচলিত তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।
ভিন্নমত
তবে এই গবেষণার সাথে একমত নন অনেক বিজ্ঞানী। একই সাময়িকীতে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণাপত্রে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারিয়া ভিনসেনজি এবং তার সহকর্মীরা দাবি করেছেন, বিদ্যমান পর্যবেক্ষণগুলো মহাবিশ্বের ত্বরান্বিত প্রসারণের পক্ষেই কথা বলে। তাদের মতে, ডার্ক এনার্জির বিষয়টিই বর্তমান মহাজাগতিক কাঠামোর প্রধান ভিত্তি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই মতপার্থক্যের অবসান ঘটাতে রুবিন অবজারভেটরির ‘লিগ্যাসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম’ (LSST) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কয়েক লাখ সুপারনোভার নতুন এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে জানা যাবে মহাবিশ্বের প্রসারণের প্রকৃত চিত্র কী এবং ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব আসলে কতটা সত্য।