ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভুল বোঝার জেরে বাড়ছে নতুন প্রেসক্রিপশনের ঝুঁকি

September 11, 2026

কানাডার টরন্টোতে সিনাই হেলথের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রচলিত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে নতুন কোনো শারীরিক সমস্যা ভেবে ভুলবশত আরও ওষুধ সেবনের ঘটনা বাড়ছে। চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল বিএমজে-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় ২৪ ধরনের সাধারণ ওষুধের এমন একটি চক্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরেকটি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘পটেনশিয়ালি ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রেসক্রাইবিং ক্যাসকেড’ (পিআইপিসি)।

গবেষক দলের প্রধান এবং সিনাই হেলথের ওয়েস্টন অ্যান্ড ও’বর্ন সেন্টার ফর মেচিউর উইমেনস হেলথের গবেষণা পরিচালক ড. পলা রোচন জানান, বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাদের একাধিক রোগ থাকায় অনেক সময় বোঝার উপায় থাকে না যে নতুন উপসর্গটি শরীরের কোনো সমস্যার কারণে নাকি আগে থেকে সেবন করা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

গবেষণায় উদাহারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ব্যথানাশক ওষুধ এনএসএআইডি (NSAIDs) অনেক সময় রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। যদি চিকিৎসক সেই উচ্চ রক্তচাপকে নতুন রোগ মনে করে আলাদা ওষুধ দেন, তবে তা মূল সমস্যার সমাধান না করে বরং রোগীর জটিলতা আরও বাড়িয়ে তোলে। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এমন ভুল নির্ণয়ের হার বেশি।

নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
নারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় বেশি ভোগেন এবং তাদের ওষুধের ব্যবহারের হারও তুলনামূলক বেশি। এর ফলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে ভুল বোঝার ঝুঁকিতে নারীরা বেশি রয়েছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরোধের উপায়
গবেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। স্বয়ংক্রিয় ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম ব্যবহার করলে চিকিৎসক জানতে পারবেন, যে নতুন ওষুধটি দেওয়া হচ্ছে সেটি আগের ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি না। এছাড়া চিকিৎসকদের পাশাপাশি ফার্মাসিস্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রোগীদের ওষুধের তালিকা ও ইতিহাস নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment