চার্লি কার্ককে নিয়ে মন্তব্যের জেরে চাকরি হারানোদের অনেকে অনুতপ্ত নন

September 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর তার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় শত শত মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। জেফ্রি বার্গুয়েটসহ ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কার্কের বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিবাদ করায় তারা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ঘটনার এক বছর পর এখন তারা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটা ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বক্তৃতার সময় চার্লি কার্ক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বার্গুয়েট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কার্ককে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি কার্ককে ‘মন্দ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে তার মতাদর্শের সমালোচনা করেন। এরপর তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বার্গুয়েট তার পরিবার নিয়ে অঙ্গরাজ্য ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

চাকরি হারানোর এই হিড়িকের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন মার্কিন রাজনীতিকরা। ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সে সময় মানুষকে কার্কের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের নিয়োগকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করেছিলেন। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জর্ডান পেসসহ অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরের হিসাব পর্যন্ত অন্তত ৬০০ জন ব্যক্তি কার্ককে নিয়ে মন্তব্যের জেরে চাকরি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী তামার শিরিনিয়ান, ডেল্টা এয়ারলাইন্সের এক কর্মী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। অনেকেই চাকরি ফিরে পেতে বা ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আইনি লড়াইয়ে সাফল্য

অনেকেই আদালতে যাওয়ার পর মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। জীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ব্রিটনি ব্রাউন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং তামার শিরিনিয়ান ১৯ লাখ ডলারের সমঝোতা চুক্তি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যারেন মাইকেলকেও তার কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই বড় ধরনের মানসিক ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও বার্গুয়েটের মতো অনেকে এখনো চাকরিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, তবুও তারা তাদের আগের অবস্থানের বিষয়ে অনুতপ্ত নন। তাদের ভাষ্যমতে, ঘৃণা ছড়ানো মতাদর্শের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার তাদের আছে। বার্গুয়েট জানান, পেশাগত জীবনের বিপর্যয় এবং পরিবারের ওপর প্রভাবের জন্য তিনি দুঃখিত হলেও, নিজের মূল মন্তব্যের বিষয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।

Leave a Comment