যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় ৬৬ মিলিয়ন বছর পুরোনো ডাইনোসরের জীবাশ্মীভূত মলে পাওয়া একটি পালক বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্যের সন্ধান দিয়েছে। শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের জীবাশ্মবিদ জিংমাই ও’কনর এবং তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এই পালকটি ডাইনোসরের যুগে পাওয়া এ যাবৎকালের সবচেয়ে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলোর একটি। এই আবিষ্কারটি কেন কেবল পাখিরাই গ্রহাণুর আঘাতে ঘটা বিলুপ্তির হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল, তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণার পটভূমি
প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে একটি বিশাল ডাইনোসর, সম্ভবত টি-রেক্স বা ন্যানোটাইরেনাস, একটি জলজ পাখি খেয়েছিল। সেই আহারের অবশিষ্টাংশ হিসেবে ডাইনোসরের মল বা কোপ্রোলাইটে পালকটি সংরক্ষিত ছিল। গবেষকরা সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে পাথরের ভেতরে থাকা এই ক্ষুদ্র পালকটি শনাক্ত করেন। হেল ক্রিক ফরমেশন এলাকা থেকে ডেভিড ডিমার জুনিয়র নামের এক গবেষক এই জীবাশ্মটি উদ্ধার করেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষে গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল, যা ইমপ্যাক্ট উইন্টার নামে পরিচিত। সে সময় অধিকাংশ ডাইনোসর বিলুপ্ত হলেও আজকের আধুনিক পাখিদের পূর্বপুরুষরা টিকে যায়। গবেষকদের ধারণা, ওই পাখিগুলোর পালকের গঠন ও তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা সাধারণ ডাইনোসর বা অন্যান্য পাখির তুলনায় উন্নত ছিল।
প্রাপ্ত পালকটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে আধুনিক ও আদিম উভয় ধরনের পালকের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল। ও’কনরের মতে, আদিম পালকগুলো সম্ভবত তাপ ধরে রাখতে আধুনিক পালকের মতো কার্যকর ছিল না। এই দুর্বলতার কারণেই সম্ভবত অন্যান্য প্রজাতির পাখিগুলো টিকে থাকতে পারেনি।
ভবিষ্যৎ গবেষণা
এই আবিষ্কার জীবাশ্ম গবেষণায় এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, মিউজিয়ামে পড়ে থাকা বা প্রকৃতিতে ছড়িয়ে থাকা ডাইনোসরের মলগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা করলে ভবিষ্যতে বিলুপ্ত প্রাণী ও তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।