সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন বার্নলি কোচ জ্যাকি বাচটেলার

September 13, 2026

যুক্তরাজ্যের বার্নলিতে সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বার্নলি নারী ফুটবল দলের কোচ জ্যাকি বাচটেলার। আগামী রবিবার টারফ মুরে বার্নলি ও সান্ডারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের আগে নিজের শারীরিক লড়াই ও সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প শেয়ার করেছেন তিনি। বাচটেলারের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না।

ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বরের কিছু সময় পর। বাচটেলার প্রথমে ভেবেছিলেন অতিরিক্ত ভ্রমণ ও ব্যস্ততার কারণে তিনি সাধারণ ঠাণ্ডায় ভুগছেন। কিন্তু প্রশিক্ষণের মাঠে হঠাৎ করেই তিনি শ্বাসকষ্টে পড়েন এবং ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার সেপসিস ধরা পড়ে।

হাসপাতালের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বাচটেলার বলেন, তিনি নিজের শরীরের অবস্থা দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন পরিস্থিতি কতটা গুরুতর। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কাটানো দিনগুলোতে তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার ফুসফুস ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক রাখতে টানা চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেই সময়ে তিনি একা ছিলেন এবং শারীরিকভাবে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে তাকে হাঁটাচলা করতেও অন্যের সাহায্য নিতে হতো।

দীর্ঘ কয়েক মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর জুলাই মাসে তিনি কাজে ফেরেন। তবে এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। সেপসিসের পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বাচটেলার নিয়মিত মাথা ঘোরা ও অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভোগেন। এমনকি মাঠে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও মাঝে মাঝে তাকে প্রচণ্ড শারীরিক অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

বার্নলি ক্লাবের চিকিৎসক ও স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাচটেলার বলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপই তার প্রাণ বাঁচিয়েছে। এই ঘটনাটি তার জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন ফুটবলের হার-জিতকে তিনি আর আগের মতো বড় করে দেখেন না, বরং বেঁচে থাকাকেই বড় প্রাপ্তি মনে করেন।

আগামী রবিবার বিশ্ব সেপসিস দিবসে তার মাঠে ফেরাটা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বাচটেলার জানিয়েছেন, সেপসিস যে কতটা নীরব ঘাতক, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে তিনি কাজ করতে চান। নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি অন্যদের সেপসিসের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Comment