তুরস্কের ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির ও মেরসিনসহ প্রধান শহরগুলোতে এলজিবিটিকিউ সংগঠন ও কর্মীদের ওপর বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে তুর্কি পুলিশ। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, শিশু, পরিবার এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে এ অভিযানে অন্তত ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ১০ বছর মেয়াদী ‘ফ্যামিলি অ্যান্ড পপুলেশন’ নির্বাহী আদেশের অংশ, যার লক্ষ্য জন্মহার কমে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলা করা।
অভিযানের প্রেক্ষাপট
রোববার চালানো এই পুলিশি অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাই ফ্যামিলি ইজ সেফ’। পুলিশ এলজিবিটিকিউ সংগঠনের অফিস, বাড়ি এবং বিভিন্ন নাইটক্লাবে একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানের কয়েকদিন আগেই সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয়। বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্র সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিবার বা যুব সমাজের ক্ষতি করে এমন কোনো অবৈধ কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। আঙ্কারার বিচারিক কর্তৃপক্ষ ‘কাওস জিএল’ নামক একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তুর্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট বৈষম্য ও ভয়ের রাজনীতি বলে বর্ণনা করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তুর্কি বিষয়ক র্যাপোর্টিয়ার নাচো সানচেজ আমোর এই ঘটনাকে তুরস্কে নিপীড়নের একটি উদ্বেগজনক বৃদ্ধি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে তুরস্কে প্রাইড মার্চ নিষিদ্ধ রয়েছে এবং এরপর থেকেই এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর ওপর বিধিনিষেধ ধারাবাহিকভাবে কঠোর করা হচ্ছে।