জাম্বিয়ার মুচিংগা প্রদেশের মুনিয়ামাদজি এলাকায় অ্যানথ্রাক্স প্রাদুর্ভাবে ৪৬টি হিপ্পো, আটটি হাতি, পাঁচটি মহিষ ও একটি কুমিরসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক নরম্যান চিপাকুপাকু জানিয়েছেন, মৃত প্রাণীর মাংস খাওয়ার কারণে ১২ জন মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থানীয় মানুষ খাদ্যের জন্য এই পশুর মাংসের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ও ঝুঁকি নিরূপণ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকায় সব ধরনের শিকার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষকে কোনো পশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ অজানা থাকলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো মৃত পশুর মাংস সংগ্রহ, বিক্রি, বিতরণ বা স্পর্শ না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অ্যানথ্রাক্স মূলত ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, যা মাটির নিচে স্পোর হিসেবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস বা কোনো ক্ষতের মাধ্যমে এটি প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণত তৃণভোজী পশু এর প্রধান শিকার হয় এবং দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ বা মাংসের মাধ্যমে মানুষেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। জাম্বিয়ায় অ্যানথ্রাক্স একটি পরিচিত রোগ হলেও মানুষের মৃত্যু তুলনামূলক কম। ২০২৩ সালে দেশটিতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, যা ১০টি প্রদেশের মধ্যে নয়টিতে ছড়িয়ে পড়েছিল।