সঙ্গীর খোঁজে জাম্বিয়া জুড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিল বন্য কুকুর

September 15, 2026

আফ্রিকার জাম্বিয়ায় সঙ্গীর খোঁজে রেকর্ড পরিমাণ ৪ হাজার কিলোমিটার বা প্রায় ২,৫০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে একদল আফ্রিকান বন্য কুকুর। মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্কট ক্রিলসহ সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানান, আফ্রিকার স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে যে, মানুষের বসতি ও নানা বাধা সত্ত্বেও বন্যপ্রাণীরা বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।

যাত্রার ধরন ও গুরুত্ব

তিন ভাই মিলে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। তারা আট মাস ধরে জাম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেছে। মূলত প্রজননের সুযোগ খুঁজতে তারা নিজ দল ছেড়ে এই দীর্ঘ সফরে বের হয়। প্রাকৃতিকভাবেই বন্য কুকুরদের মধ্যে নিজ দলের ভেতর প্রজনন করার প্রবণতা নেই, তাই নতুন সঙ্গীর সন্ধানে তারা এই ডিসপারসাল বা একমুখী ভ্রমণে অংশ নেয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সোজা পথে এই দূরত্ব ২৬০ মাইলের মতো হলেও, মানুষের তৈরি বাধা, শিল্পাঞ্চল ও রাজধানী লুসাকার মতো শহর এড়িয়ে ঘুরপথে চলায় তাদের পথ প্রায় দশ গুণ বেশি দীর্ঘ হয়েছে। এই পথচলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বন্য কুকুরের দলগুলো বিচ্ছিন্ন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বজায় রয়েছে।

সংরক্ষণ ও ঝুঁকি

গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত রাখা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে বন্য কুকুর অবৈধ ফাঁদে আটকা পড়ে প্রাণ হারায়। গবেষণায় তিন ভাইয়ের সাফল্য ধরা পড়লেও, অপর একটি দলের তিন বোনের যাত্রাপথ অর্ধেক পথেই শেষ হয়, যার মধ্যে একটি কুকুর ফাঁদে পড়ে মারা যায়।

দ্য নেচার কনজারভেন্সির কাফু কনজারভেশন ডিরেক্টর ব্রুস এলেন্ডার জানান, হাতি বা বন্য কুকুরের মতো বিশাল এলাকা জুড়ে বিচরণকারী প্রাণীদের টিকে থাকার জন্য সংরক্ষিত বনগুলোকে দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন করে রাখলে চলবে না। তাদের জন্য প্রাকৃতিক করিডোর বা সংযোগস্থল রাখা এখন সময়ের দাবি। ইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

Leave a Comment