অকাল বার্ধক্যের পেছনে ইমিউন সিস্টেমের ‘ভুল সংকেত’: নতুন গবেষণা

September 16, 2026

ইসরায়েলের জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির গবেষকরা অকাল বার্ধক্যের নেপথ্যে থাকা একটি নতুন জৈবিক কারণ উদ্ঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম অনেক সময় ভুল সংকেত পায়, যা দ্রুত বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। গবেষক ড. মারভা বার্গম্যান এবং অধ্যাপক ইতামার হারেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

সাধারণত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি সেন্সর রয়েছে যার নাম সিজিএএস (cGAS)। এটি শরীরের ভেতর কোনো ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর জেনেটিক সমস্যায় যখন ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সেই ডিএনএর টুকরো কোষের ভুল অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিজিএএস সেন্সরটি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং কোষের নিজস্ব ডিএনএ-কে বহিরাগত ভাইরাসের আক্রমণ বলে মনে করে।

এই ভুলের কারণে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়। এই প্রদাহ কেবল সুস্থ টিস্যুর ক্ষতিই করে না, বরং ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সিজিএএস সেন্সরটি কোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করে ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়া সরাসরি বিঘ্নিত করতে পারে।

গবেষকরা অকাল বার্ধক্যের শিকার একটি প্রাণীর মডেলে সিজিএএস সেন্সরের কার্যক্রম কমিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভুল প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলে টিস্যুর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এটি স্নায়বিক প্রদাহ কমাতে এবং টিস্যুর অবক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ডিএনএ-র প্রতিটি ক্ষতি মেরামত করার চেয়ে শরীরের এই ভুল ইমিউন প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সহজ ও কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সিজিএএস শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, তাই এটি পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বজায় রেখেই কিভাবে এই ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া কমানো যায়, তা নিয়ে এখন আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

Leave a Comment