কলম্বিয়ার বোগোতায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা সারাবিয়ার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজের বাসার নানিকে মিথ্যা তথ্য চুরির অভিযোগে জোরপূর্বক লাই ডিটেক্টর পরীক্ষায় বাধ্য করার দায়ে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই ঘটনা কলম্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
২০২৩ সালে কলম্বিয়ার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সেমানা এই ঘটনাটি প্রথম সামনে নিয়ে আসে। ওই সময় লরা সারাবিয়া প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সারাবিয়ার অভিযোগ ছিল, তার বাসা থেকে বেশ কয়েক হাজার ডলারভর্তি একটি ব্যাগ চুরি হয়েছে। এই চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তার বাসার নানি মারেবিস মেজাকে সরকারি ভবনে নিয়ে গিয়ে পলিগ্রাফ মেশিনে পরীক্ষা করানো হয়।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
মারেবিস মেজা জানিয়েছেন, সারাবিয়ার ব্যক্তিগত চালক তাকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের উল্টোদিকে একটি সরকারি ভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার ভাষায়, সেই পুরো অভিজ্ঞতাটি অনেকটা অপহরণের মতো ছিল। সেখানে পুলিশের কর্মকর্তারা তাকে ওই অর্থ চুরির বিষয়ে জেরা করেন। তবে মেজা শুরু থেকেই কোনো ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন।
অভিযোগের কারণ
প্রসিকিউটরদের দাবি, লরা সারাবিয়া তার দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি পুলিশ বাহিনীকে ব্যক্তিগত বিষয়ে তদন্তের জন্য ব্যবহার করেছেন। এটি তার সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত ছিল না।
পরবর্তী পদক্ষেপ
লরা সারাবিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুনানিতে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছিলেন যে, তার আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন। তিনি বিচারিক কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রসঙ্গত, ৩২ বছর বয়সী সারাবিয়া প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্যে কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।