১২৫ মিলিয়ন বছর আগের কুমিরের জীবাশ্মে মিলল ছদ্মবেশের প্রমাণ

September 16, 2026

স্পেনের কাতালোনিয়ার লেইদা প্রদেশে পাওয়া ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের একটি কুমির জাতীয় প্রাণীর জীবাশ্মে আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি প্রয়োগ করে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন গবেষকরা। ইনস্টিটিউট কাতালান ডি পালিওন্টোলজি মিকেল ক্রুসাফন্ট-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রাণিটির ত্বক, শ্বসনতন্ত্র এবং শরীরে থাকা বিশেষ নকশা শনাক্ত করা হয়েছে, যা তার ছদ্মবেশ ধারণের সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। জুওলজিক্যাল জার্নাল অফ দ্য লিনিয়ান সোসাইটিতে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

পেড্রেয়া দে মেইয়া নামক স্থানে আবিষ্কৃত এই কুমিরটির নাম দেওয়া হয়েছে মন্টসেকোসুচাস ডের্পেরেটি। জীবাশ্মটি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং বর্তমানে এটি বার্সেলোনার ন্যাচারাল সায়েন্স মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। গবেষক অস্কার কাস্তিলো-ভিসা এবং জেসুস সেরানো আল্ট্রাভায়োলেট আলো ব্যবহার করে জীবাশ্মটি পরীক্ষা করার সময় ত্বকের অদৃশ্য সূক্ষ্ম গঠনগুলো দেখতে পান, যা সাধারণ আলোয় স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না।

গবেষকদের মতে, প্রাণিটির লেজে হালকা ও গাঢ় রঙের পর্যায়ক্রমিক ব্যান্ড বা দাগ দেখা গেছে। এটি মূলত প্রাচীন ছদ্মবেশের একটি রূপ হতে পারে, যা প্রাণিটিকে তার পরিবেশের সাথে মিশে থাকতে সাহায্য করত। যদি এই তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রাচীনতম কুমির জাতীয় প্রাণীর রঙের নিদর্শন।

এছাড়া, ইউভি রশ্মির মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রাণিটির বুকের অংশে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ সদৃশ কাঠামোর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেই প্রাচীন সময়েই কুমির জাতীয় প্রাণীদের মধ্যে উন্নত শ্বসনতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল। প্রাণিটির শরীরের বিভিন্ন অংশে সেন্সরি অর্গান বা সংবেদনশীল অঙ্গের উপস্থিতির চিহ্নও পেয়েছেন গবেষকরা, যা তাদের জলজ ও স্থলজ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করত।

এই আবিষ্কারটি কুমির জাতীয় প্রাণীদের বিবর্তন এবং তাদের শারীরিক অভিযোজন সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যদিও সেই সময়েই প্রাণিটি খুব ভালোভাবে অভিযোজিত ছিল, তবুও এর শারীরিক গঠন আধুনিক কুমিরগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল।

Leave a Comment