তাঞ্জানিয়ায় পাওয়া ২৪ কোটি বছর আগের একটি জীবাশ্ম ডাইনোসরের বিবর্তনের সময়কাল নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই নতুন প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সন্ধান পেয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘ডাইনোডন্টোসরাস ইসিয়াভামান্দা’। বিষয়টি ডাইনোসরের উৎপত্তির ইতিহাস পুনর্বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের রহস্য সমাধান
১৯৬৩ সালে ব্রিটিশ একটি অভিযানের সময় তাঞ্জানিয়ায় প্রচুর সংখ্যক সিনাপসিড জীবাশ্ম সংগৃহীত হয়েছিল। এগুলো লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে অসম্পূর্ণভাবে পড়ে থাকা এসব জীবাশ্মের মধ্যে ছিল তৃণভোজী ডাইসিনোডন্ট প্রজাতির প্রাণীর কঙ্কাল। আধুনিক গবেষণায় এই কঙ্কাল ও সম্প্রতি প্রাপ্ত একটি মাথার খুলি পরীক্ষা করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি দক্ষিণ আমেরিকায় পরিচিত ডাইনোডন্টোসরাস প্রজাতির একটি নতুন ধরণ।
আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার যোগসূত্র
নতুন এই আবিষ্কারের ফলে তানজানিয়ার ভূতাত্ত্বিক স্তরের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার স্তরগুলোর একটি সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। আগে ধারণা করা হতো, তানজানিয়ার এই অঞ্চলে প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলো ডাইনোসরের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে বয়সের মিল থাকায় গবেষকরা এখন নিশ্চিত যে, তানজানিয়ার এই ডাইনোসরগুলো আগের ধারণার চেয়ে প্রায় এক কোটি বছর কম বয়সী হতে পারে।
গবেষকদের অভিমত
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ও এই গবেষণার প্রধান হাদি জর্জ জানান, এই আবিষ্কার তানজানিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার জীবাশ্মের মধ্যে বয়সের সমতা প্রমাণ করেছে। এটি ডাইনোসরের উৎপত্তির সময়কালকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে, এটি প্রমাণ করে যে মিউজিয়ামে দশকের পর দশক পড়ে থাকা পুরোনো সংগ্রহগুলো থেকেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই প্রাণীর শরীরবৃত্তীয় গঠন ও বাস্তুসংস্থান নিয়ে আরও গভীর গবেষণা চালানো হবে।