যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষকরা ইঁদুরের মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংকেত বিশ্লেষণ করে তারা যা দেখছে, তার ভিডিও চিত্র পুনরায় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। গবেষণার প্রধান ড. জোয়েল বাউয়ারের নেতৃত্বাধীন এই দলটি ইঁদুরের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ তৈরি করেছেন। মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে সরাসরি দৃশ্য তৈরির এই পদ্ধতিটি নিউরোসায়েন্সের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ক কীভাবে বাহ্যিক জগতের দৃশ্যকে অভ্যন্তরীণ উপলব্ধিতে রূপান্তর করে তা খতিয়ে দেখা। সাধারণত মানুষ বা প্রাণীর মস্তিষ্ক কোনো দৃশ্য হুবহু রেকর্ড করে না, বরং সেটি বিভিন্ন তথ্য ফিল্টার ও পরিবর্তন করে গ্রহণ করে। বিজ্ঞানীরা এই পার্থক্যের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ই-লাইফ (eLife) জার্নালে প্রকাশিত এই ফলাফলের মাধ্যমে মস্তিষ্ক কীভাবে দেখার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, তার বিস্তারিত চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
গবেষণায় ব্যবহৃত নিউরাল এনকোডিং মডেলটি ইঁদুরের নিউরনের প্রতিক্রিয়া এবং তাদের চোখের মণির নড়াচড়া ও নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করেছে। গবেষকরা প্রথমে ইঁদুরকে একটি ভিডিও দেখিয়ে তাদের মস্তিষ্কের সক্রিয় নিউরনগুলো রেকর্ড করেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পিক্সেল সমন্বয় করে মূল ভিডিওটির কাছাকাছি দৃশ্য পুনরায় তৈরি করা হয়।
ড. বাউয়ার জানান, তারা এমন এক পদ্ধতি তৈরি করতে চেয়েছেন যা মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ প্রতিনিধিত্ব ও বাস্তবতার পার্থক্য ধরতে পারবে। এই মডেলটির প্রশিক্ষণের পর ইঁদুরকে যখন সম্পূর্ণ নতুন একটি ভিডিও দেখানো হয়, তখন শুধুমাত্র মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ব্যবহার করেই সিস্টেমটি নতুন ভিডিওটি পুনরায় তৈরি করতে পেরেছে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত রেজোলিউশনের দৃশ্য পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।