যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার লুনার রিকনসাঁ অরবিটার (এলআরও) চাঁদের পৃষ্ঠে একটি বিশালাকার প্রভাবজনিত গর্তের সন্ধান পেয়েছে, যা এমন ধরনের ঘটনা হিসেবে বিরল। নাসার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার অরবিটারের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বিশ্লেষণের সময় এই পরিবর্তনটি লক্ষ্য করেন। গর্তটির নাম রাখা হয়েছে বিজ্ঞানী টম ম্যাকগেচিনের নামে।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে তিন থেকে ছয় তলা ভবনের সমান আকৃতির একটি ধুমকেতু বা গ্রহাণু চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে। এর ফলে তৈরি হওয়া গর্তটি ৭২৮ ফুট প্রশস্ত এবং ১৪১ ফুট গভীর। এটি আমাদের সৌরজগতের আধুনিক সময়ের বৃহত্তম গর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের মহাজাগতিক আঘাত সাধারণত প্রতি ১৩২ বছরে মাত্র একবার ঘটে থাকে।
গবেষণার গুরুত্ব
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এলআরও-এর ন্যারো-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরার মাধ্যমে এই গর্তের বিস্তারিত ছবি তোলা হয়। বিজ্ঞানীরা এই এলাকা নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে, গর্তটির চারপাশের প্রায় ৪ মাইল এলাকাজুড়ে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম থাকে।
তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণ
গবেষকদের মতে, মহাজাগতিক ওই আঘাতের ফলে চাঁদের উপরিভাগের মাটি বা রেগোলিথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ঘনত্ব কমে গেছে। ফলে এই অংশটি তাপ ধরে রাখতে পারছে না। নাসা জানিয়েছে, এই শীতল অঞ্চলগুলো ভবিষ্যতে চাঁদে রোভার বা যান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি চাকার গতিপথ ও ভূপৃষ্ঠের প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।