চীনের শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিজে লেং এবং তার দল গবেষণায় দেখেছেন যে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলে ‘মেনিন’ নামক প্রোটিনের মাত্রা কমে যাওয়া বার্ধক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। ইঁদুরের ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, মেনিন প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, ত্বকের পাতলা হয়ে যাওয়া এবং স্মৃতিশক্তির অবনতির মতো বার্ধক্যজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। এই আবিষ্কারটি বার্ধক্য কেন হয় এবং একে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মেনিন প্রোটিন হাইপোথ্যালামাসে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গবেষকরা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ইঁদুরের মস্তিষ্ক থেকে মেনিন প্রোটিন কমিয়ে দিলে তাদের মধ্যে দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। পরবর্তী ধাপে, ২০ মাস বয়সী বৃদ্ধ ইঁদুরের হাইপোথ্যালামাসে মেনিন প্রোটিন পুনরায় প্রবেশ করালে তাদের ত্বকের পুরুত্ব ও হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এছাড়া তাদের শেখার ক্ষমতা ও ভারসাম্যেরও উন্নতি ঘটে এবং তাদের গড় আয়ু কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
মস্তিষ্কের এই জটিল প্রক্রিয়ায় ‘ডি-সেরিন’ নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। মেনিন প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কে ডি-সেরিনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা স্মৃতিশক্তি ও শেখার প্রক্রিয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, মেনিন পুনরুদ্ধার করলে ডি-সেরিনের মাত্রাও স্বাভাবিক হয়। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ডি-সেরিন পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করলেই তা বার্ধক্য রোধ করবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
পরবর্তী গবেষণায় এটি পরিষ্কার হয়েছে যে, বার্ধক্য প্রক্রিয়ায় হাইপোথ্যালামাস ও শরীরের অন্যান্য অংশের মধ্যে যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই গবেষণার ফলাফল ইঁদুরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবে মানুষের বার্ধক্য রোধে এর প্রয়োগ নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন বাকি রয়েছে। মেনিন প্রোটিনের মাত্রা কেন বয়সের সাথে কমে যায় এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।