সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শুক্রবার গভীর রাত ও শনিবার সকালে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধির পর জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো রিয়াদে এ ধরনের সতর্কবার্তা দিল সৌদি সিভিল ডিফেন্স। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিপদ কেটে গেছে এবং বাসিন্দাদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
সংঘাতের পটভূমি
সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর এবং পেরিম দ্বীপ দখল করে নিয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সৌদি অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব বর্তমানে লোহিত সাগরের এই রুটটির ওপর তেল রপ্তানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
গত সপ্তাহে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বেশ কিছু তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
জাতিসংঘের উদ্বেগ
ইয়েমেনের এই গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে শুরু হলেও ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপে তা আরও জটিল আকার ধারণ করে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২২ মিলিয়নের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বাব আল-মানদাব প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রতি জরুরি বৈঠক করেছে।