দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের নিকটবর্তী একুরহুলেনি অঞ্চলে নারীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশে তীব্র ভীতি ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত জুলাই মাস থেকে ওই এলাকায় নয়জন নারীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় গণমাধ্যম। নিহতদের স্বজন এবং অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ৩৮ বছর বয়সী দিনো মোতাপানে নামে এক নারীর মরদেহ ক্ষতবিক্ষত ও আংশিক পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজন নোসোয়ান্ডা মাতশিকিজা জানান, তার পরিবার এই নৃশংসতার কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। একুরহুলেনি অঞ্চলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজন নারীর মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় এলাকাটিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী দোকানদার ইতুমেলেং কেকানা, যার মরদেহ জুলাই মাসে একটি সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় মাত্র একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং প্রত্যেকের শরীরেই চরম নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে এসব ঘটনার পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলার রয়েছে কি না।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট। মানবাধিকার কমিশনের তথ্যমতে, গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশটিতে ৫৬৯ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১,০৫২ জন নারী হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে গত নভেম্বরে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখন ‘ফেমিসাইড’ বা নারীবিদ্বেষী হত্যাকাণ্ডকে একটি পৃথক অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, এটি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত না হলে রাষ্ট্র এই সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এসব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে সাধারণ নারীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা। স্থানীয়রা মনে করছেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া এই সহিংসতা থামানো সম্ভব নয়।