যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নতুন আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেল মার্কিন প্রশাসন, যা বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো বড় আমদানিকারকদের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লিবার্টি ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬ নামে পরিচিত ৪৮ পৃষ্ঠার এই বিলটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাশিয়ার তথাকথিত শ্যাডো ফ্লিট বা ছায়া ট্যাঙ্কার বহরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যে সব দেশ রাশিয়ার ওপর থেকে জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনছে এবং মোট চাহিদার ১৫ শতাংশের কম গ্যাস আমদানি করে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলটি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে, যিনি ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এই আইনকে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অকেজো করার একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৫০ শতাংশ চীন এবং ৩৭ শতাংশ ভারত কিনেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আইন স্বাক্ষরের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, এই আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই হবে প্রয়াত সিনেটর গ্রাহামের স্মৃতির প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে গেছেন লিন্ডসে গ্রাহাম। গত ১১ জুলাই কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭১ বছর বয়সে মারা যান এই সিনেটর।