যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের সাংবাদিক লরেন্স বঙ্ক স্মার্ট টিভির পাশাপাশি আলাদা স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। স্মার্ট টিভি এবং রোকু, ফায়ার টিভি স্টিক বা ক্রোমকাস্টের মতো স্ট্রিমিং ডিভাইসগুলো মূলত একই কাজ করলেও, পুরনো বা ধীরগতির টিভির ক্ষেত্রে আলাদা ডিভাইস ব্যবহার করা বেশ কার্যকর সমাধান হতে পারে।
গতি এবং পারফরম্যান্স
সব স্মার্ট টিভির প্রসেসর সমান শক্তিশালী হয় না। অনেক স্মার্ট টিভির সফটওয়্যার পুরনো হয়ে গেলে বা প্রসেসর দুর্বল হলে সেগুলো ধীরগতির হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে একটি আলাদা স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করলে দ্রুত গতির অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা পাওয়া যায়। পুরো টিভি পরিবর্তন না করে সামান্য খরচে স্ট্রিমিং ডিভাইস কিনলে পুরনো টিভিকেও নতুনের মতো সচল রাখা সম্ভব হয়।
নির্ভরযোগ্যতা ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ
স্মার্ট টিভির ইন্টারনাল মেমোরি বা র্যামের ওপর অনেক ধরনের চাপ থাকে, যা মাঝেমধ্যে অ্যাপ ক্র্যাশ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে, স্ট্রিমিং ডিভাইসগুলো কেবল ভিডিও চালানোর কাজেই নিবেদিত থাকে, যা স্ট্রিমিং অভিজ্ঞতাকে মসৃণ করে। এছাড়া, অনেক স্মার্ট টিভিতে প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। অ্যাপল টিভির মতো কিছু স্ট্রিমিং বক্সে বিজ্ঞাপনের ঝামেলা নেই বললেই চলে, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে।
সফটওয়্যার সাপোর্ট ও বাড়তি সুবিধা
স্মার্ট টিভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট প্রদান করে, যা বন্ধ হয়ে গেলে টিভিটি অকেজো হয়ে পড়তে শুরু করে। আলাদা স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করলে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা যায়। এছাড়া এনভিডিয়া শিল্ডের মতো কিছু ডিভাইসে গেমিং সুবিধা, প্লেক্স মিডিয়া সার্ভার ব্যবহারের সুযোগ এবং রিমোট খোঁজার মতো বাড়তি ফিচার পাওয়া যায়।
ব্যবহারের নমনীয়তা
স্ট্রিমিং ডিভাইসগুলো আকারে ছোট এবং বহনযোগ্য হওয়ায় এগুলো সহজেই এক টিভি থেকে অন্য টিভিতে স্থানান্তর করা যায়। এমনকি ভ্রমণের সময় হোটেলে নিজের পছন্দের স্ট্রিমিং সেটআপ সাথে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা থাকায় এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর কাছে বাড়তি গুরুত্ব পায়।