জাপানের ইওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বিড়ালের প্রস্রাবে গোপন রাসায়নিক ‘আইডি কার্ড’ বা সংকেত শনাক্ত করেছেন। এই বিশেষ রাসায়নিকটি বিড়ালদের একে অপরকে দীর্ঘ সময় পরেও শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই আবিষ্কার বিড়াল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘ্রাণভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচন করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, বিড়ালের প্রস্রাবে ১৩ ধরনের অস্বাভাবিক ফ্যাটি অ্যাসিড বা ব্রাঞ্চড-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিডের (BFAs) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতিটি বিড়ালের প্রস্রাবে এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলোর মিশ্রণ ও অনুপাত ভিন্ন হয়, যা তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় বা ‘কলিং কার্ড’ হিসেবে কাজ করে। বিড়ালরা এই ঘ্রাণ ব্যবহার করে সহজেই অন্য বিড়ালকে চিনতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বিড়ালের কিডনিতে থাকা চর্বিযুক্ত ড্রপলেট বা লিপিড ড্রপলেট বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য ছিল। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনির এই ড্রপলেটগুলো আসলে লিপিড সংরক্ষণের আধার হিসেবে কাজ করে, যা প্রস্রাবে বিড়ালের স্বতন্ত্র রাসায়নিক ছাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিড়ালের খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক অবস্থা পরিবর্তিত হলেও এটি তাদের পরিচয় সংকেতকে স্থিতিশীল রাখে।
জাপান, জার্মানি ও স্পেনের গবেষকদের এই দলটির মতে, সিংহ, বাঘ, চিতা ও বনবিড়ালসহ বিড়াল প্রজাতির অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিড়ালের প্রস্রাবে পাওয়া এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো বেশ দীর্ঘস্থায়ী, যা পরিবেশ থেকে সহজে মিলিয়ে যায় না।
এই গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিপন্ন প্রজাতির বিড়াল জাতীয় প্রাণীদের ধরতে বা খাঁচায় বন্দী না করেই প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সহজ হবে।