জার্মানির বার্লিন এবং মেকলেনবুর্গ-পোরেমেনিয়া অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা গেছে। বার্লিনে বামপন্থী দল ‘ডি লিঙ্কে’ জয়ী হলেও মেকলেনবুর্গ-পোরেমেনিয়ায় জয় পেয়েছে অতি-ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। এই ফলাফলের পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এটিকে বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং নিজ দলের ভেতর চাপের মুখে পড়েছেন।
বার্লিনের ভোটের চিত্র
বার্লিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, বামপন্থী দল ‘ডি লিঙ্কে’ ২৪.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে ২০ শতাংশ এবং অতি-ডানপন্থী এএফডি পেয়েছে ১৬ শতাংশ ভোট। ১৯৯০ সালে জার্মানির পুন একত্রীকরণের পর প্রথমবারের মতো বার্লিনে মেয়র পদ দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে বামপন্থীদের সামনে। তবে সরকার গঠনের জন্য তাদের অন্য দলের সমর্থন নিতে হবে।
মেকলেনবুর্গ-পোরেমেনিয়া ও চ্যান্সেলরের সংকট
মেকলেনবুর্গ-পোরেমেনিয়ায় এএফডি ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) পেয়েছে ৩৬ শতাংশ। এই ফলাফলকে ‘বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়েছেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। চ্যান্সেলরের দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে ধীরগতির কারণে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন এএফডি নেতা টিনো ক্রুপাল্লা। তবে মের্জ জানিয়েছেন, তিনি সংস্কার কাজ চালিয়ে যেতে চান এবং পদত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
রাজনৈতিক প্রভাব
এই নির্বাচনগুলোতে প্রায় ৩৮ লাখ ভোটারের রায় প্রতিফলিত হয়েছে। সম্প্রতি স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডি-র শক্তিশালী অবস্থান এবং বার্লিন ও মেকলেনবুর্গ-পোরেমেনিয়ার নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চ্যান্সেলর মের্জের প্রতি জনসমর্থন কমে মাত্র ১৪ শতাংশে নেমে আসায় তার দলীয় নেতৃত্ব এখন চাপের মুখে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের অভিবাসন সমস্যা, অর্থনীতি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষই এই ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।