মঙ্গল গ্রহের চাঁদ ফোবোসের রহস্য উন্মোচনে বিশাল গহ্বর

September 20, 2026

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় জিওসায়েন্সেস ইউনিয়নের সাধারণ সভায় বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের চাঁদ ফোবোসের উৎপত্তি নিয়ে তাদের নতুন গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছেন। গবেষক বেঞ্জামিন হেসার ও তার সহকর্মীরা ফোবোসের পৃষ্ঠতলের সবচেয়ে বড় গহ্বর ‘স্টিকনি’ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন। এই গহ্বরটি ফোবোসের গঠন এবং এটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা বুঝতে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফোবোস কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুটি প্রধান মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। একদল গবেষকের মতে, ফোবোস আসলে একটি গ্রহাণু যা মঙ্গলের মহাকর্ষ বলের কারণে আটকে গিয়েছিল। অন্যদলের দাবি, মঙ্গলে কোনো বিশাল বস্তুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ থেকেই এই চাঁদের জন্ম হয়েছে।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি ডের বুন্ডেসউয়ের মুনচেনের গবেষক বেঞ্জামিন হেসার জানান, স্টিকনি গহ্বরটি ফোবোসের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় ৯ কিলোমিটার ব্যাসের এই বিশাল গহ্বরটি ফোবোসের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। যদি ফোবোস মঙ্গলের আঘাত থেকে উৎপন্ন ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি হয়, তবে এই গহ্বরটি প্রায় ৪.২ বিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি এটি কোনো গ্রহাণু হয়ে থাকে, তবে এর বয়স হতে পারে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন বছর।

ফোবোসকে সাধারণ কোনো পাথুরে বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা ভুল হবে বলে মনে করেন হেসার। এর অভ্যন্তরীণ গঠন অনেকটা স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত এবং এতে বরফের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্টিকনি গহ্বরের নিচে ঘন বস্তুর উপস্থিতির যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা যাচাই করা গেলে এর জন্মের রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হবে।

ফোবোসের বর্তমান অবস্থা নিয়েও বিজ্ঞানীরা চিন্তিত। মঙ্গলের অত্যন্ত কাছে অবস্থানের কারণে এই চাঁদটি ধীরে ধীরে গ্রহটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে একে ধ্বংস বা মঙ্গলের সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই রহস্য সমাধানের জন্য জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাপানের মার্টিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন (এমএমএক্স) মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৬ সালের শেষের দিকে উৎক্ষেপণ হতে যাওয়া এই মিশনের লক্ষ্য হলো ফোবোসের পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসা। এই মিশনের সংগৃহীত তথ্য ও নমুনা ফোবোসের জন্ম ও বিবর্তনের অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment