যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের গেইথার্সবার্গে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (NIST) দীর্ঘ এক দশকের গবেষণার পর মহাকর্ষের মৌলিক ধ্রুবক বা ‘বিগ জি’ (Big G) পরিমাপে নতুন এক তথ্যের অমিল পাওয়া গেছে। পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফান শ্ল্যামিঞ্জার ও তার দল এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। মহাকর্ষের সঠিক শক্তি নির্ণয় করা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ ২২৫ বছরের পুরোনো ধোঁয়াশা এই নতুন ফলাফলের মাধ্যমে আরও জোরালো হলো।
গবেষণার পটভূমি
মহাকর্ষ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে পরিচিত শক্তি হলেও, প্রকৃতির অন্যান্য মৌলিক শক্তির তুলনায় এর শক্তি কতটুকু, তা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা বিজ্ঞানীদের জন্য বরাবরই চ্যালেঞ্জের। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কারের পর থেকে গত দুই শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীরা ‘বিগ জি’ পরিমাপের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলগুলোতে সামান্য পার্থক্য থেকে যাচ্ছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরীক্ষণ পদ্ধতি
গবেষণার সময় যেন কোনো পক্ষপাত না থাকে, সেজন্য স্টিফান শ্ল্যামিঞ্জার একটি অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তার সহযোগী প্যাট্রিক অ্যাবটকে তথ্যের একাংশ গোপন বা ‘ব্লাইন্ড’ করতে বলেন। পরীক্ষার আসল মানটি একটি সিলগালা খামে রাখা ছিল। স্টিফান শ্ল্যামিঞ্জার ১০ বছর ধরে সব তথ্য বিশ্লেষণ করলেও খামটি খোলেননি, যাতে পরীক্ষার ফলের প্রভাব তার কাজে না পড়ে। অবশেষে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই কলোরাডোর অরোরায় আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি খামটি খুলে ফলাফল প্রকাশ করেন।
ফলাফলের তাত্পর্য
বিশ্লেষণ শেষে দেখা যায়, তাদের প্রাপ্ত ‘বিগ জি’-এর মান ৬.৬৭৩৮৭ × ১০^-১১ মিটার৩/কেজি/সেকেন্ড২, যা ২০০৭ সালে ফ্রান্সে পরিচালিত গবেষণার চেয়ে ০.০২৩৫ শতাংশ কম। এই পার্থক্য আপাতদৃষ্টিতে নগণ্য মনে হলেও পদার্থবিজ্ঞানের সূক্ষ্ম হিসাবের ক্ষেত্রে এটি অনেক বড়। গবেষকদের মতে, এটি সাধারণ কোনো ভুল হতে পারে, অথবা প্রকৃতির এমন কোনো নিয়ম যা বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না।
ভবিষ্যৎ করণীয়
গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পর স্টিফান শ্ল্যামিঞ্জার জানান, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর এই রহস্যের পেছনে ব্যয় করেছেন। এখন তিনি নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের ওপর এই জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান। তবে বিজ্ঞানের খাতিরে নির্ভুল পরিমাপের এই চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।