ডেড সি স্ক্রলসের ২ হাজার বছরের পুরনো রহস্যের সমাধান করলেন গবেষকরা

September 20, 2026

ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এশবাল র‍্যাটজন ডেড সি স্ক্রলসের রহস্যময় ৩৬৪ দিনের ক্যালেন্ডার ব্যবহারের অস্পষ্টতা নিরসনে নতুন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক ছিল যে, প্রাচীন কুমরান গোষ্ঠী কি সত্যিই এই ক্যালেন্ডার অনুসরণ করত, নাকি এটি কেবল একটি তাত্ত্বিক আদর্শ ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই গোষ্ঠী ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সত্যিই ক্যালেন্ডারটি ব্যবহার করেছিল।

কুমরান সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত এই ৩৬৪ দিনের ক্যালেন্ডারটি তৎকালীন প্রচলিত লুনাসোলার ক্যালেন্ডার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। এর বিশেষত্ব হলো এটি ৫২টি পূর্ণ সপ্তাহে বিভক্ত ছিল, যার ফলে ধর্মীয় উৎসবগুলো প্রতি বছর সপ্তাহের একই দিনে পালিত হতো। এই সুশৃঙ্খল কাঠামোকে তারা ঐশ্বরিক নির্দেশ বলে বিশ্বাস করত।

তবে এই ক্যালেন্ডারের একটি বড় সমস্যা ছিল এর দৈর্ঘ্য। সৌর বছরের তুলনায় এটি সোয়া এক দিন ছোট হওয়ায় সময়ের সাথে সাথে তা ঋতুর সাথে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলত। দীর্ঘ সময় ধরে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষি ও ঋতুভিত্তিক উৎসবগুলো তার সময়সূচী থেকে সরে যেত, যা কৃষিনির্ভর সম্প্রদায়ের জন্য বেশ সমস্যা তৈরি করত।

অধ্যাপক র‍্যাটজনের মতে, কুমরান গোষ্ঠী দ্বিতীয় শতাব্দীতে তাদের অস্তিত্বের প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যালেন্ডারটি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করত। জেরুজালেমের ধর্মীয় নেতাদের সাথে তাদের মতপার্থক্যের পেছনে এই ক্যালেন্ডার ব্যবহারের প্রভাব ছিল। তবে সময়ের সাথে ঋতুর অমিল এবং হসমোনীয় নেতৃত্বের সাথে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তারা ধীরে ধীরে এই ক্যালেন্ডারটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে এই ৩৬৪ দিনের ক্যালেন্ডারটি ব্যবহারিক প্রয়োজনের বদলে একটি ধর্মীয় আদর্শ বা পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। গবেষক দলটির মতে, এটিই ছিল কারণ যে কেন কুমরান পাণ্ডুলিপিগুলোতে এই ক্যালেন্ডারের এত উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও ইতিহাসের বাস্তবতায় এটি একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই গবেষণার ফলাফল টারবিজ কোয়ার্টারলি ফর জিউইশ স্টাডিজ-এ প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Comment