যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের গবেষকরা এমন একটি রাসায়নিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা মানুষের ক্ষতি ছাড়াই ৯৫ শতাংশ উইপোকা ধ্বংস করতে সক্ষম। গবেষণার প্রধান লেখক ও এন্টোমোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নিকোলাস পোলোস এবং অধ্যাপক ডং-হোয়ান চো জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিটি উইপোকা দমনে প্রচলিত বিষাক্ত গ্যাস বা ফিউমিগেশনের একটি নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
সাধারণত ড্রাইউড উইপোকা ঘরের আসবাবপত্র বা কাঠের কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকে, যা খুঁজে বের করা ও নির্মূল করা কঠিন। গবেষকরা খেয়াল করেছেন, এই পোকাদের বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর খোলস বদল বা মল্টিং করতে হয়। বিজ্ঞানীরা ‘বিস্ট্রিফ্লুরন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করেছেন, যা উইপোকার নতুন খোলস তৈরির সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে পোকাগুলো খোলস পরিবর্তনের সময় নতুন আবরণ তৈরি করতে না পেরে মারা যায়।
গবেষকদের দাবি, বিস্ট্রিফ্লুরন কেবলমাত্র পোকামাকড়ের ওপর কার্যকর, তাই এটি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে উইপোকাদের সামনে সাধারণ কাঠ ও বিষাক্ত কাঠ উভয়ই ছিল, সেখানেও ৯৫.৭ শতাংশ পোকা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া, উইপোকাদের সামাজিক আচরণের সুযোগ নিয়ে এই বিষ এক পোকা থেকে অন্য পোকায় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, যা পুরো কলোনি নির্মূলে সহায়ক।
বর্তমানে এই পদ্ধতিটিকে আরও ব্যবহারিক ও কার্যকর করার কাজ চলছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, কাঠের ভেতরে জমে থাকা উইপোকার মল পরীক্ষা করে সংক্রমণের মাত্রা নির্ণয় করা এবং এই রাসায়নিক ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে উইপোকা নিয়ন্ত্রণ করা ভবিষ্যতে অনেক সহজ হবে।