ব্ল্যাক ডেথের পরেও ৪০০ বছর ইউরোপে কেন ফিরে ফিরে এসেছিল প্লেগ

September 21, 2026

এস্তোনিয়ার টারতু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক গবেষণায় জানিয়েছেন, ইউরোপে ব্ল্যাক ডেথের পরবর্তী ৪০০ বছর ধরে কীভাবে প্লেগ বারবার ফিরে এসেছিল। ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এই দীর্ঘ সময় ধরে রোগটি ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে এবং বাণিজ্য, অভিবাসন ও যুদ্ধের মাধ্যমে পুরো মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গবেষণাটিতে এস্তোনিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডের ১১টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে প্লেগের জীবাণু ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস-এর ২৬টি জিনোম উদ্ধার করা হয়েছে। চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই জীবাণুর বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বিভিন্ন সময়ে ইউরোপের নানা প্রান্তে বারবার নতুন সংক্রমণের সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ করে ১৪৫০ থেকে ১৫০০ সালের দিকে এই জীবাণুর বংশগতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং এটি নতুন তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্য ইঁদুরের শরীরে এই জীবাণুর নতুন আবাসস্থল গড়ে ওঠা এর বিস্তারে সহায়তা করেছিল। এস্তোনিয়ার মতো অঞ্চলে বারবার প্লেগের ফিরে আসা প্রমাণ করে যে ইউরোপের দেশগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ এই রোগ ছড়ানোর অন্যতম কারণ ছিল।

ঐতিহাসিক সংক্রমণের সময়কাল নির্ধারণে গবেষকরা একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রাচীন জিনোমগুলোকে ঐতিহাসিক নথিপত্রে উল্লিখিত প্লেগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলানো সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা যুদ্ধের সঙ্গে মহামারীর গভীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।

গবেষক দলের মতে, ত্রিশ বছরের যুদ্ধ (১৬১৮-১৬৪৮) এবং গ্রেট নর্দার্ন যুদ্ধের (১৭০০-১৭২১) সময় সৈন্যদের চলাচল, বাস্তুচ্যুত মানুষের স্থানান্তর এবং বাণিজ্যের রুটগুলো ব্যবহার করে প্লেগ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৭১০ সালে তালিন অবরোধের সময়ও প্লেগে বহু সৈন্য ও সাধারণ নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছিল।

প্লেগ এখন ইউরোপে বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না হলেও, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বন্য ইঁদুরের শরীরে এখনও এই জীবাণুর অস্তিত্ব রয়েছে। গবেষকদের দাবি, অতীতের প্লেগ কীভাবে টিকে ছিল এবং বিবর্তিত হয়েছিল তা বুঝতে পারা আধুনিক সংক্রামক রোগের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment