জিবুতির ওবোক শহরের মারকাজি শরণার্থী শিবিরে ইয়েমেনের উপকূলে চলমান যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা শত শত পরিবারের ভিড় বাড়ছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালী পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে তারা এই শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন। ইয়েমেনের দুবাব উপকূলীয় শহরের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ইব্রাহিম ইসা জানান, বিমান হামলার শব্দে শিশুদের আতঙ্কিত হয়ে পড়া সহ্য করতে না পেরেই তারা এই কঠিন পথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে সাম্প্রতিক নতুন করে লড়াই শুরুর পর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়েমেনি গৃহহীন হয়েছেন। গত কয়েক দিনেই ৩ হাজারের বেশি শরণার্থী জিবুতিতে পৌঁছেছেন। হুথি বিদ্রোহীরা উপকূলীয় অঞ্চল দখলের চেষ্টা করলে সৌদি সমর্থিত বাহিনী পাল্টা বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ইয়েমেনিদের অভিযোগ, হামলার পেছনে কোন পক্ষ দায়ী তা বড় বিষয় নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন বোমা হামলা তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। শতবর্ষী কাসিম ইব্রাহিম আবসি জানান, আকাশ থেকে ফেলা বোমার শব্দ আর প্রাণভয়ের কারণেই তাদের এই দেশত্যাগ।
২০১৪ সাল থেকে চলা এই গৃহযুদ্ধে কয়েক দশ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি সম্প্রতি ভেঙে যাওয়ায় লড়াই নতুন করে দানা বেঁধেছে। মারকাজি শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে শান্তি ফিরলে তবেই তারা দেশে ফেরার কথা ভাববেন। বর্তমানে তাদের একমাত্র প্রত্যাশা নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ।