২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৮ শতাংশ মহাসাগর পর্যবেক্ষণে সক্ষম হবে নতুন ড্রোন

September 22, 2026

ফ্রান্সের সরকারি মহাসাগর গবেষণা সংস্থা ইফরেমার সমুদ্রের গভীর তলদেশ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন প্রযুক্তির ড্রোন তৈরি করেছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৮ শতাংশ মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে সক্ষম হবে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

প্রযুক্তি ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে আরগো প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বজুড়ে ৪ হাজারটি ডেটা সংগ্রহকারী ড্রোন সমুদ্রের ২ হাজার থেকে ৪ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত কাজ করে। তবে সমুদ্রের গভীরতম বা অ্যাবিসাল জোনগুলোর তথ্য সংগ্রহের জন্য নতুন ড্রোনগুলো ৬ হাজার মিটার গভীরতায় পৌঁছাতে সক্ষম। ইফরেমারের প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান জেভিয়ের আন্দ্রে জানান, সমুদ্রের তলদেশের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করা এবং সাত বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকার মতো দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সক্ষমতা নিশ্চিত করাই ছিল এই ড্রোন তৈরির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই চাপ সামলাতে ড্রোনগুলোর কাঠামো নির্মাণে বিশেষ কম্পোজিট উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ ও গুরুত্ব

এই ড্রোনগুলো মূলত সমুদ্রের পানি, লবণাক্ততা, তাপমাত্রা, অক্সিজেন এবং চাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে। সংগৃহীত এই তথ্যগুলো আবহাওয়া ও জলবায়ু কেন্দ্রগুলোকে সমুদ্রের গতিপ্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করবে। ইফরেমারের ভৌত সমুদ্রবিজ্ঞানী ভার্জিনি থিয়েরি জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রের গভীর স্তরের কার্বন সঞ্চয় এবং তাপমাত্রা পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে জলবায়ু পূর্বাভাসের মডেলগুলোকে আরও নির্ভুল করা সম্ভব হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পাশাপাশি ফ্রান্সও এই গভীর সমুদ্র গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

Leave a Comment