ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) অংশগ্রহণের জন্য। এই সফরে ইরানি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের কূটনৈতিক পথ নিয়ে আলোচনা করবে। মঙ্গলবার সকালে তেহরান থেকে রওনা দেওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, জাতিসংঘে তারা ইরানের জনগণের ভোগান্তি, দেশটির ওপর সংঘটিত অপরাধ এবং সৃষ্ট অবিশ্বাসের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই সফরে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বুধবার ১৯৩ সদস্যের এই সাধারণ সভায় পেজেশকিয়ান তার ভাষণ দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি এরই মধ্যে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সংস্থাটি বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তেহরান বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে কিন্তু একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নিউ ইয়র্কে পাঁচ দিনের এই সফরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের মধ্যে এই সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কূটনৈতিক এই আয়োজনে যুদ্ধ নিরসনের বড় কোনো সম্ভাবনা নেই।