উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনে সেউটা সংকট, ফুটবলের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের টানতে বিভিন্ন দল ভাইরাল ফুটবল স্লোগান, দশ লাখ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি এবং ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কথা বলছে। তবে দেশটির অনেক তরুণ মনে করছেন, রাজনীতির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আটলাস অঞ্চলের পরিবেশকর্মী সিহাম আজেরুআল বলেন, এই নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তার কোনো আশা নেই এবং তিনি রাজনৈতিক পরিবেশকে একটি সার্কাস বলে মনে করেন।
মরক্কোর সংসদীয় নির্বাচনের এই ভোট আগামী সরকার গঠন নিশ্চিত করবে। ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশটির প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্পেনের সেউটা ছিটমহলে পৌঁছাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চরম হতাশা ও সুযোগের অভাবের বহিঃপ্রকাশ। মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশ, যেখানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৩৯৫টি আসনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা রাজকীয় সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুচের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। এর জেরে প্রায় ২,৪০০ মানুষ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। তবে দমিয়ে রাখা সত্ত্বেও, কিছু তরুণ অধিকারকর্মী এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তেতুয়ান শহরের বাসিন্দা হামজা এল খারুবি পরিবেশবাদী দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি জানান, সেউটা সীমান্তে প্রাণ হারানো অভিবাসীদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি তার অন্যতম নির্বাচনী এজেন্ডা। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোতে যুব বেকারত্বের হার ৩৭.৩ শতাংশ।
ফুটবল ও নির্বাচনী কৌশল
রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ফুজি লেকজা এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত মুখ। জাতীয় ফুটবল দল ‘অ্যাটলাস লায়নস’-কে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নেওয়ার কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাকে। তিনি সেন্ট্রিস্ট পার্টি অব অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি (পিএএম) থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রচারণায় ২০২২ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীন জনপ্রিয় স্লোগান ‘সির’ (চলুন) ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি মরক্কোর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে ফুটবলের মতো বিশ্বমানের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। যদিও মরক্কো ও ইসরায়েল সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস খোলার বিষয়ে একমত হয়েছে।