যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকরা ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন এক ওষুধের উদ্ভাবন করেছেন, যা টিউমারের ওষুধ-প্রতিরোধী ক্ষমতা ভেঙে দিতে সক্ষম। গবেষক দলের প্রধান ড. উই-চিন লিন জানান, সিএস১৮ (CS18) নামের এই পরীক্ষামূলক ওষুধটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বর্তমান থেরাপিগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণার এই ফলাফল ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যান্সার চিকিৎসার বড় প্রতিবন্ধকতা হলো থেরাপির বিরুদ্ধে টিউমারের তৈরি করা প্রতিরোধী ক্ষমতা। চিকিৎসার শুরুতে কিছু ওষুধ কার্যকর হলেও সময়ের সাথে সাথে ক্যান্সার কোষগুলো নিজেদের বদলে ফেলে এবং চিকিৎসার প্রতি প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। এই সমস্যা সমাধানে গবেষকরা ক্যান্সার কোষের টিকে থাকার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক বা ‘বায়োলজিক্যাল সুইচ’ হিসেবে পরিচিত টপআইসোমারেজ টু-বিটা বাইন্ডিং প্রোটিন বা ‘টপবিপি১’ (TopBP1)-কে লক্ষ্যবস্তু করেছেন।
গবেষণা অনুযায়ী, সিএস১৮ ওষুধটি টপবিপি১-এর কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে ক্যান্সার কোষের টিকে থাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। এটি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়া কমিয়ে দেয় এবং ক্যান্সার বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রোটিনগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে ফেলে। পরীক্ষাগারে স্তন ক্যান্সার, ডিম্বাশয় ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র মাইলয়েড লিউকেমিয়ার কোষের ওপর এই ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সিএস১৮ ব্যবহার করলে বিদ্যমান ক্যান্সার ওষুধ যেমন ওসিমারটিনিব বা পিএআরপি ইনহিবিটরের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব ফুসফুস ক্যান্সারের কোষ আগে ওষুধের প্রতি প্রতিরোধী ছিল, সিএস১৮ প্রয়োগের ফলে সেগুলোর সংবেদনশীলতা পুনরায় ফিরে এসেছে। প্রাণীর ওপর করা পরীক্ষায় টিউমারের উল্লেখযোগ্য সংকোচন দেখা গেছে এবং এতে কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিষক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি। এই ওষুধটি ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।