আয়ারল্যান্ড এবং ইসরায়েলের ফুটবল দল উয়েফা নেশন্স লিগে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা নিয়ে আয়ারল্যান্ডে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলার, সমর্থক এবং বিভিন্ন তারকা এই ম্যাচ বর্জনের দাবি জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিচেল মার্টিন জানিয়েছেন যে, খেলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখা কঠিন হলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে।
কেন এই বিতর্ক
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রমের প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডকে (এফএআই) ম্যাচ দুটি বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’ নামক একটি প্রচারণামূলক গোষ্ঠী এবং বোহেমিয়ান এফসি-র মতো ক্লাবগুলো এফএআই-এর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
ম্যাচের স্থান ও নিরাপত্তা
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ দুটি আয়ারল্যান্ড বা ইসরায়েলে হচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচটি হাঙ্গেরির ডেব্রিসেনে এবং ইসরায়েলের ‘হোম’ ম্যাচটি সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উয়েফা ইসরায়েলকে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন থেকে বিরত রেখেছে। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এটি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
ফুটবল কর্মকর্তাদের অবস্থান
এফএআই প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল জানিয়েছেন, ম্যাচ বর্জন করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে, যা আইরিশ ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হবে। তবে সমালোচকরা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে একে নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচ হেমির হালগ্রিমসন জানিয়েছেন যে, তারা গণহত্যার বিপক্ষে অবস্থান করছেন এবং খেলায় মনোযোগ দিতে চান। ম্যাচটি নিয়ে ইসরায়েলি ফুটবল ফেডারেশন কোচের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে, যাকে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।