উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইরিশ লিগে ফুটবলারদের মাঝে জুয়া খেলার আসক্তি ও এর ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক ফুটবলার অ্যারন হগসহ কয়েকজন খেলোয়াড় মিলে ‘গ্যাম্বলিং সাপোর্ট গ্রুপ’ (জিএসজি) গঠন করেছেন। জুয়ায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া ও মানসিক অবসাদে ভোগা খেলোয়াড়দের সহায়তা করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
আইরিশ লিগের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, বর্তমানে লিগের পুরুষ ও নারী প্রিমিয়ারশিপের বিভিন্ন ক্লাবের জার্সিতে বেটিং কোম্পানির নাম ও লোগো যুক্ত হচ্ছে। এমনকি লিগ কাপসহ অন্যান্য আঞ্চলিক টুর্নামেন্টেও বুকমেকাররা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, যা ফুটবলারদের জুয়ার দিকে ধাবিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
অ্যারন হগ জানিয়েছেন, দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি দেখেছেন কীভাবে ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতিতে জুয়া ঢুকে পড়েছে। তার মতে, খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরে এসে ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান না করে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নষ্ট করছে। তিনি আট বছর ধরে জুয়া থেকে দূরে থাকলেও এই লড়াই যে দীর্ঘমেয়াদী, তা স্বীকার করেছেন।
পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন পিএফএ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রধান মাইকেল কারভিল বলেন, তারা খেলোয়াড়দের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সহায়তা ও শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। মাঠের সব খেলোয়াড় জুয়ায় আসক্ত কি না, তা ড্রেসিংরুমে থাকা সহকর্মীদের পক্ষেও বোঝা কঠিন। তাই এই সাপোর্ট গ্রুপের মাধ্যমে তারা একটি গোপন ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যেখানে কেবল টেক্সট বা কিউআর কোড স্ক্যান করেই সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
তবে এই স্পনসরশিপ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। নর্থল্যান্ডস অ্যাডিকশন ক্লিনিকের থেরাপি প্রধান টমি ক্যানিং মনে করেন, বেটিং কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে আবার খেলোয়াড়দের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়াটা ভণ্ডামি। তিনি মনে করেন, স্পনসরশিপের লোভে ফুটবলের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিঘ্নিত হচ্ছে।
বর্তমানে আইরিশ লিগের মাঠে মাঠে কিউআর কোড ও পোস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে এই সহায়তামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পিএফএ এবং জিএসজি তাদের এই কর্মসূচিকে কেবল এক বছরের প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে, যাতে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জুয়ার অন্ধকার জগত থেকে রক্ষা করা যায়।