নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার কারণ হিমবাহ ধস: গবেষক

August 28, 2026

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার কারণ হিসেবে একটি হিমবাহের ধসকে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানীরা জানান, হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার প্রভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শুরুর দিকে ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস থেকে এই বন্যার উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) স্পষ্ট করেছে যে, এটি মূলত একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। হিমবাহের বিশাল কোনো অংশ ভেঙে পড়ার ফলে যে প্রচণ্ড গতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কম্পন তৈরি করেছিল।

ডানডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. সাইমন কুক জানান, ল্যাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া বরফ ও পাথরের স্তূপ লেন্ডে খোলা নদীর প্রবাহে বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করে। এর ফলে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে পানির স্তর সাত থেকে নয় মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং অনেকগুলো পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইক সার্লের মতে, এই প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। তিনি বলেন, হিমালয় পর্বতমালা দীর্ঘমেয়াদী ভূ-গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে ক্রমাগত উঁচু হচ্ছে, যার ফলে হিমবাহগুলো খাড়া হয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরনের ধসের ঘটনা ঘটছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বরফ গলার হার ২০০০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ ও পার্মাফ্রস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে ভূমিধস এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়ছে।

Leave a Comment