পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টের তাই ফরেস্টের বনাঞ্চলে বন্য বানরের পায়ের গঠন ও চলাচলের ধরন পর্যবেক্ষণ করে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মানব বিবর্তনের ধারণা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লুক ফ্যানিন এবং অধ্যাপক ডব্লিউ স্কট ম্যাকগ্রা পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির বানর তাদের পায়ের হাড়ের নমনীয়তা ব্যবহার করে সহজেই খাড়া গাছ বেয়ে উঠতে পারে, যা আগে বিজ্ঞানীদের কাছে অস্পষ্ট ছিল।
মানুষ ও শিম্পাঞ্জির বিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে তাদের অভিন্ন পূর্বপুরুষের (এলসিএ) শারীরিক গঠন ও চলাচলের সক্ষমতা জানা জরুরি। এতদিন ধারণা করা হতো, উল্লম্বভাবে গাছে চড়ার জন্য শিম্পাঞ্জির মতো নমনীয় গোড়ালি অপরিহার্য। তবে গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, বানরদের পায়ের গোড়ালি শিম্পাঞ্জির মতো না হলেও তারা তাদের পায়ের মধ্যভাগের নমনীয়তা ব্যবহার করে একই ধরনের দক্ষতার সঙ্গে গাছে উঠতে সক্ষম।
কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ
গবেষকদের মতে, জীবাশ্মের গঠন দেখে অতীতে চলাচলের ধরন সম্পর্কে যে ধারণা করা হতো, তা ভুল হতে পারে। লুক ফ্যানিন বলেন, পায়ের গঠন ভিন্ন হলেও কার্যকারিতার দিক থেকে বানর ও শিম্পাঞ্জির মধ্যে মিল রয়েছে। তাই কোনো প্রাণীর গোড়ালির গঠন শিম্পাঞ্জির মতো নয় বলেই যে সে খাড়া গাছে উঠতে পারত না, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই গবেষণায় বানরের গাছ বেয়ে ওঠার ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বানরেরা তাদের পায়ের মধ্যভাগ প্রায় ৪৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকাতে পারে, যা উল্লম্বভাবে গাছে চড়ার ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করে। এই নতুন তথ্য মানব বিবর্তনের ধারায় গাছ থেকে মাটিতে নেমে আসার প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষক দলের প্রধান ডব্লিউ স্কট ম্যাকগ্রা জানান, মানুষের হাত ও পায়ের গঠন বিবর্তনের পর্যায়ক্রমে বৃক্ষচারী জীবনধারার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। মানুষের দুই পায়ে হাঁটার সক্ষমতা থাকলেও তাদের মধ্যে এখনো গাছ বা উঁচু স্থানে আরোহণের প্রবণতা রয়েছে, যা আমাদের আদিম সংযোগের প্রমাণ। এই গবেষণার ফলাফল প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। মানব বিবর্তনের সঠিক ইতিহাস উন্মোচনে ভবিষ্যতে আরও জীবাশ্ম বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।