ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত মালয়েশীয় বোর্নিও, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট

September 1, 2026

মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের বিভিন্ন অংশে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল থেকে আসা বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ধোঁয়া জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্বাধীনতা দিবসের মতো বাইরে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান অঞ্চলের বনভূমি ও পিটল্যান্ডে লাগা আগুনের ধোঁয়া বাতাসে ভেসে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যসহ ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের পর এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ ধোঁয়া বা হেজ সমস্যা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাতাসের মান পরিস্থিতি

মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের ছয়টি এলাকায় বাতাসের মান সূচক বা এয়ার পলিউশন ইনডেক্স ৩০০ অতিক্রম করে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সারাওয়াকের রাজধানী কুচিংয়ে এই সূচক ৪০৭ এবং কালিমান্তান সীমান্তের কাছে সেরিয়ান শহরে ৪০৮ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। সাধারণত ১০০-এর উপরের মানকে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গত এক মাস ধরে সেখানে নীল আকাশ দেখা যায়নি এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে।

স্বাস্থ্য ও জনজীবনের সংকট

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে সারা দেশে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা প্রায় আট গুণ বেড়েছে। কনজাংটিভাইটিসের প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ধোঁয়ার কারণে কুচিং ও আশপাশের এলাকার শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাইরে খেলাধুলা বা প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। সারাওয়াকের উপ-প্রিমিয়ার ডগলাস উগাহ এমবাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এবং সূচক ৫০০ ছাড়িয়ে গেলে স্থানীয়ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হতে পারে।

আগুন ও প্রাকৃতিক কারণ

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়েছে। পাম অয়েল চাষ, কৃষি এবং পাল্প ও কাগজ উৎপাদনের জন্য জমি পরিষ্কার করতে অবৈধভাবে এই আগুন দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া প্যাটার্ন, যা অঞ্চলটিকে আরও উষ্ণ ও শুষ্ক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে বৃষ্টির আগে এই পরিস্থিতি থেকে সহসা মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

Leave a Comment