আফগানিস্তানে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ, সংকটে বিশাল জনগোষ্ঠী

September 1, 2026

আফগানিস্তানের তোরখাম সীমান্তে অবস্থিত জিরো পয়েন্ট দিয়ে পাকিস্তান ও ইরান থেকে বিতাড়িত হয়ে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার আফগান নাগরিক। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর গত তিন বছরে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ আফগানিস্তানে ফিরে এসেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করলেও একে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা হিসেবে দেখছেন।

ফিরতে বাধ্য হওয়া অনেকেরই আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনো পরিচয় নেই। অনেক শিশু ও তরুণ প্রজন্মের জন্ম পাকিস্তানে বা ইরানে হওয়ায় তারা নিজেদের দেশ হিসেবে আফগানিস্তানকে চেনেন না। তোরখাম সীমান্তে পৌঁছানোর পর অনেককেই চরম অনিশ্চয়তা ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র চার্লি গুডলেক জানিয়েছেন, আধুনিক ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থানান্তর নজিরবিহীন।

পাকিস্তান ও ইরান সরকার অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, কেবল অনিবন্ধিত নয়, বরং অনেক নিবন্ধিত আফগান শরণার্থীও এই উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। অনেকে পাকিস্তানের পুলিশের হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করলেও, নিজ দেশে তাদের বেঁচে থাকার নূন্যতম সম্পদটুকুও নেই।

দেশটির নারীদের ভবিষ্যৎ ও মানবাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক প্রত্যাগত পরিবার। তালেবান সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় ফিরতে বাধ্য হওয়া নারীরা জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে বৈশ্বিক সহায়তার অভাব আফগানিস্তানের বর্তমান মানবিক অবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফগানিস্তানের ১০ লাখ শিশু জীবন-হুমকিপূর্ণ অপুষ্টিতে ভুগছে।

Leave a Comment