যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোয়াকিন উপত্যকায় আলফালফা ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে চলেছে একটি ছোট আকারের শস্য ছিটানোর বিমান। তবে অন্য বিমানের মতো এখানে কোনো পাইলট নেই। ‘পিকা’ নামক স্টার্টআপ কোম্পানির এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন ফ্লাইট টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার রাস মারোটজকে। তার মতে, মানুষ চালিত বিমানের চেয়েও নিখুঁতভাবে এই স্বয়ংক্রিয় বিমানগুলো কাজ করতে সক্ষম, যা রাসায়নিক ছিটানোর অপচয় অনেকাংশে কমিয়ে আনে।
পিকা ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় বা অটোনোমাস উড়োজাহাজ নিয়ে কাজ করছে। মূলত শস্য ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগ এবং পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হলেও, নির্মাতাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে যাত্রী পরিবহন করা। পিকার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাইকেল নরসিয়া মনে করেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে যাত্রীবাহী বিমান তৈরিই তাদের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে ব্রাজিলে পিকার এক ডজন বিমান তুলা ও সয়াবিন ক্ষেতে নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। ১১.৫ মিটার ডানাবিশিষ্ট এই বৈদ্যুতিক বিমানগুলো একবার চার্জে প্রায় ৩৫ মিনিট উড়তে পারে এবং ৩০০ লিটার পর্যন্ত স্প্রে বহন করতে সক্ষম। এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিপিং কনটেইনারের ভেতরে বসে প্রকৌশলীরা ম্যাপের মাধ্যমে পথ নির্ধারণ করে দেন। এরপর বিমানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন, স্প্রে করা এবং কাজ শেষে পুনরায় অবতরণ করতে পারে।
অটোপাইলট এবং অটোনোমাস বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অটোপাইলট শুধু পাইলটকে সহায়তা করে, কিন্তু অটোনোমাস ব্যবস্থা উড্ডয়ন থেকে অবতরণ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মাইকেল কোচেন্ডারফারের মতে, গাড়ির তুলনায় বিমানে প্রযুক্তির প্রয়োগ ধীরগতির হওয়ার প্রধান কারণ কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড। আকাশপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি হওয়ায় এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
এই খাতে সামরিক আগ্রহও অনেক। অনেক কোম্পানি সামরিক খাতের কাজগুলো আগে সম্পন্ন করে তাদের প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাই করছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ পণ্য পরিবহনে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বা বিমানের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ নিয়ে বিতর্কও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (এএলপিএ) মনে করে, পাইলট ছাড়া বিমান চালানো নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের জুয়া খেলার শামিল।
নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কেউ নতুন বিমান তৈরি করছে, আবার কেউ বিদ্যমান বিমানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি যুক্ত করছে। সেন্সর, রাডার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিমানকে বাধা শনাক্ত এবং এড়ানোর সক্ষমতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও সব কোম্পানি এআই ব্যবহারে একমত নয়, তবে স্বয়ংক্রিয় আকাশযান যে ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।