দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের রুস্তেনবার্গ শহরের অদূরে এনকানেং এলাকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে মাটি চাপা পড়ে ১৪ জন খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট ঘটা এই দুর্ঘটনার বিষয়ে আল-জাজিরাকে তথ্য দিয়েছেন বেঁচে যাওয়া লেসোথোর এক অভিবাসী শ্রমিক লেরোথোদি নাল। নথিপত্রহীন অভিবাসী হওয়ার কারণে গ্রেফতারের ভয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর্থার অ্যাডামস জানিয়েছেন, খনির নিচে আরও অনেক শ্রমিক আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকার সমৃদ্ধ ক্রোম খাতের আড়ালে থাকা এক অন্ধকার জগতকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, যেখানে বেকার ও অভিবাসী শ্রমিকরা অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন।
খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা
রুস্তেনবার্গ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ভূ-তাত্ত্বিক গঠন ‘বুশভেল্ড ইগনিয়াস কমপ্লেক্স’-এর ওপর অবস্থিত, যা প্ল্যাটিনাম ও ক্রোম খনিজের জন্য পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের বৃহত্তম ক্রোম উৎপাদনকারী দেশ এবং এখানকার খনিজ বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে চীনের স্টেইনলেস স্টিল শিল্পে বড় ভূমিকা রাখে। তবে মূলধারার খনি শিল্পের পাশাপাশি পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত খনিগুলোতে অবৈধভাবে খনিজ আহরণ বেড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ধাতু শাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত খনিগুলো এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে, কারণ সেখানে কোনো ভূতাত্ত্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণ
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, লেসোথো, জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিক থেকে আসা নথিপত্রহীন অভিবাসী এবং স্থানীয় বেকারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে খনিতে কাজে লাগানো হয়। অপরাধী চক্রগুলো তাদের খাবার ও সরঞ্জাম সরবরাহ করলেও উপার্জনের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয় এবং ঋণের দায়ে আটকে রেখে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানের অভাব অপরাধী চক্রগুলোর জন্য সস্তায় শ্রমিক পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
পরিবেশ ও জনজীবনে প্রভাব
অবৈধ খনি কার্যক্রম শুধু শ্রমিকদের জীবনই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষিজমি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। বাফালানে ট্র্যাডিশনাল কাউন্সিলের নেতা ম্মানতশে রামোকোকা জানান, খনিগুলো এখন পরিবেশগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সরকার ‘অপারেশন ভালা উমগোদি’র মাধ্যমে অবৈধ খনি বন্ধের উদ্যোগ নিলেও খনি শ্রমিক ও অপরাধী নেটওয়ার্কের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই বছরে রুস্তেনবার্গ এলাকায় ২৩টি মামলা হয়েছে এবং বেশ কিছু ভারী যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে, তবে দারিদ্র্য ও ক্ষুধার তাড়নায় মানুষ এখনো এই মরণফাঁদে পা রাখছে।