ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে রাশিয়ার অবক্ষয়ের নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, যা চলমান যুদ্ধের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হামলার বিবরণ
মঙ্গলবার দিনের বেলায় চালানো রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘উই আর ইউক্রেন’-এর কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরাসরি সম্প্রচার চলার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন। টেলিভিশন চ্যানেলটি জানিয়েছে, এটি কোনো দুর্ঘটনাবশত হামলা ছিল না, বরং সরাসরি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। এর আগে রাতের বেলা চালানো ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয় এবং ২৫ জন আহত হন। সলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কূটনৈতিক পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের পর শান্তি আলোচনার প্রত্যাশা তৈরি হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যায়নি। উভয় দেশ এই সফরকালে তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। তবে আলোচনার মাঝেই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে, যা নিয়ে উভয় পক্ষই তাদের নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে।
বর্তমান সংকট
ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কবার্তা বর্তমানে যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন শোনা যাচ্ছে। হামলার পর স্থানীয়রা ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি শীতকাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন এবং পশ্চিমা মিত্রদের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।