নেপালের কাঠমান্ডুতে ভয়াবহ বন্যার পর দুর্যোগে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, যারা এই সংকটাপন্ন সময়ে দুর্গতদের নিয়ে উপহাস বা কটূক্তি করছেন, তাদের প্রতি কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত মাসে নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর অনেকেই তাদের নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে নেটিজেনদের একটি অংশ ভুক্তভোগীদের প্রতি অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও অপমানজনক মন্তব্য করছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান পেতে সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করায় অনেক ভুক্তভোগীই অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এমন এক ভুক্তভোগী বিবিসিকে জানান, তার নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে মারাত্মক সব কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা ও তদন্ত
নেপালি পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইনে এসব বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করতে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। দেশটির ইলেকট্রনিক ট্রানজ্যাকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি বা হয়রানির দায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা এই সংবেদনশীল সময়ে ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে আরও কষ্ট দিচ্ছে, তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
কেন এমন মন্তব্য
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা নেপালের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বডি অ্যান্ড ডেটার নির্বাহী পরিচালক দোভান রাইয়ের মতে, অনলাইনে এই অসংবেদনশীল আচরণের পেছনে কিছু মানুষ ‘রেজ বেইটিং’ বা উত্তেজনার মাধ্যমে ক্লিক পাওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে। এছাড়া সরকারের অন্ধ সমর্থক ও বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে চরম মেরুকরণের ফলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।