ইউক্রেনের কিয়েভে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু জানিয়েছেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন এবারই সবচেয়ে কঠিন শীতকাল মোকাবিলা করতে যাচ্ছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার নিয়মিত হামলায় জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় ঘটার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের শীর্ষ এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, রাশিয়া অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক মেরামত করার জন্য এখন সময়ের সঙ্গে লড়াই চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইউক্রেনে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
বর্তমানে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়া তাদের নতুন প্রযুক্তির জেট-চালিত ড্রোন ব্যবহার করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। এতে শপিং মল, পেট্রোল পাম্প ও কারখানার মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়ার হামলায় গত বৃহস্পতিবার দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহ্রাদ শহরে পাঁচজন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন। একই সপ্তাহে জাপোরিঝিয়া ও সুমি শহরেও শপিং মলে বিমান হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সোচি শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেন ও মলদোভার সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় আরও দুইজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ইউক্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কাজ করছে। তবে আলেকজান্ডার ডি ক্রু জানিয়েছেন, নিয়মিত বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের মধ্যে কাজ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং কষ্টসাধ্য। তিনি বলেন, জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়লে তা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি ও মানবিক সংকটের সৃষ্টি করবে।